পিওকের মুজাফফরাবাদের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর Mi-17 হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাগ্রস্ত, ২১ নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর দাবি

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি Mi-17 হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২১ নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর দাবি করা হলেও সেনাবাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা নিশ্চিত করেনি এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মুজাফফরাবাদের কাছে বুধবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি Mi-17 হেলিকপ্টার উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হেলিকপ্টারে থাকা ২১ জন নিরাপত্তাকর্মীর সবাই নিহত হয়েছেন, তবে সেনাবাহিনী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।

দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটি নীলম ভ্যালি সেক্টরের দিকে যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এলাকাটি সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর হেলিকপ্টারটিতে হঠাৎ প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়। পাইলট জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নিরাপদে অবতরণ সম্ভব হয়নি এবং হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা পিওকের নীলম ভ্যালি অঞ্চলে মোতায়েনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সেখানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছিল, কারণ আইনসভার সংরক্ষিত আসন নিয়ে বিরোধ ও বিক্ষোভ চলছিল।

পিওকে-তে গত কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এর পর এলাকায় আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো হয় এবং একাধিক স্থানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। প্রশাসন ভ্রমণ ও জনসমাগমসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

পিওকের মুজাফফরাবাদের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর Mi-17 হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাগ্রস্ত, ২১ নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর দাবি

দুর্ঘটনার পর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করেছেন। সেনাবাহিনী এটিকে একটি গুরুতর দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করে বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, দেশ এসব নিরাপত্তাকর্মীর আত্মত্যাগ স্মরণে রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ তার সাহসী সৈনিকদের সেবা ও আত্মত্যাগ কখনও ভুলবে না” এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হবে।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত Mi-17 একটি রুশ-উৎপত্তির সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টার, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী ব্যবহার করে। পাকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া থেকে এই হেলিকপ্টার সংগ্রহ করে এবং পরে এর একাধিক উন্নত সংস্করণও অন্তর্ভুক্ত করে।

এই হেলিকপ্টার মূলত সেনা মোতায়েন, রসদ সরবরাহ, ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান এবং আহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে এর কার্যকারিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

Mi-17 প্রায় ২৪ থেকে ৩৬ জন সৈন্য বহন করতে সক্ষম এবং প্রতিকূল আবহাওয়া ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায়ও উড্ডয়ন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় ২৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা এবং পরিচালন সক্ষমতার উচ্চতা প্রায় ৬,০০০ মিটার।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, তবে এখনো দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট নয়। এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল ছিল নাকি প্রতিকূল আবহাওয়া ও এলাকার চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিও ভূমিকা রেখেছে, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

Leave a comment