PAN-Aadhaar ডেটা ডার্ক ওয়েবে! ৫০০ টাকায় বিক্রি পরিচয়পত্রের তথ্য—কীভাবে ফাঁস হয়, বাঁচবেন কীভাবে জানুন

PAN-Aadhaar ডেটা ডার্ক ওয়েবে! ৫০০ টাকায় বিক্রি পরিচয়পত্রের তথ্য—কীভাবে ফাঁস হয়, বাঁচবেন কীভাবে জানুন

ভারতে প্রায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের কাছেই আছে Unique Identification Authority of India-র আধার এবং আয়কর দপ্তর কর্তৃক ইস্যু করা Income Tax Department-এর প্যান কার্ড। ব্যাঙ্কিং থেকে ঋণ, সিম কার্ড থেকে সরকারি সুবিধা—সব ক্ষেত্রেই এই দুই নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, এই তথ্যই নাকি ডার্ক ওয়েবে অল্প টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডার্ক ওয়েব কী ও কীভাবে কাজ করে?

ডার্ক ওয়েব ইন্টারনেটের এমন একটি অংশ, যা সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনে ধরা পড়ে না। বিশেষ ব্রাউজার ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সেখানে প্রবেশ করতে হয়। সাইবার অপরাধীরা চুরি করা ডেটা এখানে কেনাবেচা করে বলে সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি। অনেক ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া বা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ‘এজেন্ট’-দের সঙ্গে যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে।

২০১৮-র চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

২০১৮ সালে The Tribune-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মাত্র ৫০০ টাকায় যে কারও আধার তথ্য অ্যাক্সেস করা সম্ভব। অভিযোগ ছিল, কিছু অসাধু ব্যক্তি লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড সরবরাহ করত। যদিও Unique Identification Authority of India এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিরাপত্তা ভাঙার কথা মানেনি।

২০২৩-২৪: বৃহৎ ডেটা ফাঁসের দাবি

সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ২০২৩ সালে প্রায় ৮১৫ মিলিয়ন ভারতীয়র তথ্য বিক্রির দাবি ওঠে। ২০২৪ সালেও কোটি কোটি মোবাইল নম্বর ও পরিচয় তথ্য ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। কিছু প্রতিবেদনে CoWIN ও Indian Council of Medical Research (ICMR)-এর ডেটাবেসের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, যদিও সরকারি মহল একাধিক ক্ষেত্রে সরাসরি দায় অস্বীকার করেছে।

কীভাবে ফাঁস হয় তথ্য?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটা ফাঁসের সম্ভাব্য উৎস একাধিক—

ফিশিং লিঙ্কে ক্লিক করে OTP বা পাসওয়ার্ড শেয়ার করা

ভুয়ো কল সেন্টার বা কেওয়াইসি আপডেটের নাম করে প্রতারণা

অভ্যন্তরীণ কর্মীদের অসাধু যোগসাজশ

দুর্বল সার্ভার সিকিউরিটি

একবার তথ্য বাইরে গেলে পরিচয় চুরি, ভুয়ো ঋণ, ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সরকার কী বলছে?

সরকারি দাবি, আধারের বায়োমেট্রিক তথ্য সুরক্ষিত এবং তা সরাসরি ফাঁস হয় না। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন প্রণয়নও হয়েছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সচেতনতাই সবচেয়ে বড় ঢাল।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?

অজানা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না

OTP, PIN বা পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না

নিয়মিত অফিসিয়াল পোর্টালে লগইন করে নিজের তথ্য যাচাই করুন

সন্দেহজনক লেনদেন দেখলে জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানান

শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন

আধার নম্বর, প্যান, মোবাইল, ঠিকানা—সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে অল্প টাকায় বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। অতীতে বড়সড় ডেটা ফাঁসের ঘটনাও সামনে এসেছে। কীভাবে এই তথ্য বাইরে যায়, ঝুঁকি কতটা, আর সাধারণ নাগরিক কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন—রইল বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

Leave a comment