স্ত্রীর হত্যায় অভিযুক্ত স্বামী, সন্তানকে নিয়ে নিখোঁজ! পানিহাটিতে রক্ত জমাট আতঙ্ক

স্ত্রীর হত্যায় অভিযুক্ত স্বামী, সন্তানকে নিয়ে নিখোঁজ! পানিহাটিতে রক্ত জমাট আতঙ্ক
সর্বশেষ আপডেট: 30-11--0001

পানিহাটি পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আজাদ হিন্দ নগর জেগে ওঠে এক বিভীষিকার খবরে—স্ত্রীকে খুন করে সন্তানকে নিয়ে পলাতক স্বামী! প্রিয়াঙ্কা নাথ নামে ২৭ বছরের এক গৃহবধূকে বাড়ির মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, খুনি স্বামীই, যিনি এখন সন্তানসহ বেপাত্তা।

ফোনে সাড়া না পেয়ে বাড়িতে এসে ভাইয়ের সামনে রক্তাক্ত প্রিয়াঙ্কা, আতঙ্কে এলাকা

শনিবার রাত থেকেই প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল পরিবারের। একাধিকবার ফোন করেও যখন সাড়া মেলেনি, তখন রবিবার সকালে প্রিয়াঙ্কার ভাই ছুটে আসেন তাঁর শ্বশুরবাড়িতে। দরজা ভেঙে ঢুকে যে দৃশ্য সামনে আসে, তা স্তম্ভিত করে দেয় সকলকে—খাটের নিচে পড়ে রয়েছে রক্তাক্ত প্রিয়াঙ্কার নিথর দেহ!

খুনের পর সন্তানকে নিয়ে অজ্ঞাতবাসে স্বামী! পুলিশের চিরুনি তল্লাশি শুরু

প্রিয়াঙ্কার পরিবারের অভিযোগ, স্বামী সুকান্ত নাথই স্ত্রীকে খুন করে ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে ঘোলা থানার পুলিশ। অভিযুক্ত ও শিশুটির খোঁজে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি। এ ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

দাম্পত্যে অশান্তির ছায়া, খুনের কারণ কি পুরনো বিবাদ? তদন্তে উঠছে প্রশ্ন

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুই বছর ধরে আজাদ হিন্দ নগরের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন সুকান্ত ও প্রিয়াঙ্কা। তাঁদের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। এমনকী, মাসখানেক আগেও প্রিয়াঙ্কা বাপের বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে ফের শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন তিনি।

হাতে গভীর কাটার দাগ, খাটের নিচে লাশ, আতঙ্কিত প্রতিবেশীরা

প্রিয়াঙ্কার ভাই ও স্থানীয়রা জানান, খাটের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ পড়েছিল। দুই হাতের শিরা কাটা ছিল গভীরভাবে। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই চিৎকার করে ওঠেন। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে পাঠায় ময়নাতদন্তে। প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা হতে পারে।

পুলিশের তৎপরতা, তল্লাশি চালানো হচ্ছে একাধিক জায়গায়

প্রিয়াঙ্কার জামাইবাবু প্রদীপ মজুমদার জানান, ফোনে না পেয়ে তাঁরা ছুটে যান শ্বশুরবাড়িতে। গিয়ে দেখেন ভয়াবহ দৃশ্য। ঘোলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসিপি তনয় চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সুকান্ত ও ছেলেকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

প্রতিবেশীরা বলছেন, ‘ওরা কারও সঙ্গে মেশেনি, দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত’

প্রতিবেশী রতন শীল জানান, সুকান্ত ও প্রিয়াঙ্কা খুব একটা কারও সঙ্গে মিশতেন না। কিন্তু প্রায়শই তাঁদের মধ্যে গন্ডগোল হতো। কাউন্সিলর শ্যামলী দেব রায় বলেন, এত বড় ঘটনা পাড়ার ভিতরে ঘটবে, ভাবতেও পারিনি। শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। দোষী যেন শাস্তি পায়।

Leave a comment