ভারতে জ্বালানির চাহিদা প্রতিদিনই বাড়ছে। কিন্তু দেশের সব রাজ্যে পেট্রল ব্যবহারের চিত্র এক নয়। কোথাও মাথাপিছু পেট্রল খরচ জাতীয় গড়ের পাঁচ গুণ, আবার কোথাও সেই পরিমাণ অত্যন্ত কম। সম্প্রতি Petroleum Planning and Analysis Cell (PPAC)-এর প্রকাশিত তথ্য সেই বৈষম্যের ছবিই সামনে আনল। তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে গোয়া, আর পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে নিচের সারিতে।
গোয়ায় পেট্রল খরচ জাতীয় গড়ের পাঁচ গুণ!
২০২৪-২৫ সালের PPAC রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রতি ১০০ জনে দৈনিক গড় পেট্রল ব্যবহার প্রায় ১০.৪ লিটার। তবে গোয়ায় সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ৫২.৪ লিটারে। অর্থাৎ জাতীয় গড়ের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি পেট্রল ব্যবহার হয় এই পর্যটননির্ভর রাজ্যে।বিশেষজ্ঞদের মতে, গোয়ায় পর্যটকদের ভিড়, ব্যক্তিগত গাড়ির উচ্চ ব্যবহার এবং ভাড়ার গাড়ির উপর নির্ভরতা এই বিপুল ব্যবহারের অন্যতম কারণ। ছোট রাজ্য হওয়ায় সড়কপথে যাতায়াতও এখানে অত্যন্ত বেশি।
পুদুচেরি ও চণ্ডীগড়ও শীর্ষ তালিকায়
গোয়ার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পুদুচেরি। সেখানে প্রতি ১০০ জনে দৈনিক পেট্রল ব্যবহার ৪১ লিটার। তৃতীয় স্থানে রয়েছে চণ্ডীগড়, যেখানে এই হার ৩৭.৮ লিটার।এই অঞ্চলগুলিতেও নগরায়ন, উচ্চ গাড়ির মালিকানা এবং পর্যটননির্ভর অর্থনীতি পেট্রল ব্যবহারের হার বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান কোথায়?
সবচেয়ে কম পেট্রল ব্যবহারের রাজ্যের তালিকায় রয়েছে বিহার। সেখানে প্রতি ১০০ জনে দৈনিক ব্যবহার মাত্র ৩.৩ লিটার। তার পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, যেখানে এই হার ৫.১ লিটার।বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও বহু মানুষ গণপরিবহণের উপর নির্ভরশীল। কলকাতা-সহ বড় শহরগুলিতে মেট্রো, বাস ও লোকাল ট্রেন ব্যবস্থার ব্যবহার বেশি হওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ির উপর নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম। সেই কারণেই মাথাপিছু পেট্রল খরচও কম।
ডিজেলের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা
ডিজেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্য চিত্র একেবারেই ভিন্ন। দেশে প্রতি ১০০ জনে দৈনিক গড় ডিজেল ব্যবহার ২১ লিটার। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, যেখানে ব্যবহার ১৪৪ লিটার। দ্বিতীয় স্থানে লাদাখ, সেখানে এই হার ১১১ লিটার।সবচেয়ে কম ডিজেল ব্যবহার হয়েছে আবারও বিহারে। সেখানে প্রতি ১০০ জনে দৈনিক ব্যবহার মাত্র ৬ লিটার। দিল্লিতেও ডিজেল ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম।
জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা বাড়ছে
পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কেন্দ্রের অন্দরেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ভারতের পেট্রল ও ডিজেলের দামেও।এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মেট্রো ব্যবহার, কারপুলিং, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং রেলপথে পণ্য পরিবহণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
দেশজুড়ে পেট্রল ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্যভেদে বিশাল ফারাক সামনে আনল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা PPAC। মাথাপিছু পেট্রল ব্যবহারে দেশের শীর্ষে রয়েছে গোয়া। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ব্যবহারের তালিকায় রয়েছে বিহার। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থানও নিচের দিকেই। পর্যটন, নগরায়ন, গাড়ির সংখ্যা ও পরিবহণ ব্যবস্থার পার্থক্যই এই বৈষম্যের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।







