আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে তীব্র ওঠানামার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল ইউরোপের এক দেশ। ভারতের থেকে মাত্র ৯ ঘণ্টার দূরত্বে থাকা পোল্যান্ড এবার সোনার ভাণ্ডার বাড়িয়ে বিশ্বসেরা শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত ১৫০ টন সোনা কেনা হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বড় পরিকল্পনা
পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ ১৫০ টন অতিরিক্ত সোনা কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট সোনার ভাণ্ডার বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭০০ টনে। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি, তবু এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আর্থিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামার মধ্যেই নজরকাড়া সিদ্ধান্ত
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া বাজারে সোনার দামে বড় ধস লক্ষ্য করা গেছে। ৩০ জানুয়ারি ভারতে রেকর্ড ছোঁয়ার পর একদিনেই সোনার দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ এবং রুপোর দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়াকেই এই পতনের মূল কারণ বলা হচ্ছে। এই আবহেই পোল্যান্ডের সোনা কেনার সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রিজার্ভ নীতিতে সোনার ভূমিকা বাড়াচ্ছে পোল্যান্ড
পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের লক্ষ্য, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের অন্তত ৩০ শতাংশ যেন সোনায় থাকে। নতুন নীতিতে প্রয়োজনে এই সীমা ছাড়িয়ে মোট সোনা ৭০০ টনে পৌঁছানোর কথাও বলা হয়েছে। ব্যাঙ্কের গভর্নর আদাম গ্লাপিনস্কির মতে, এই পদক্ষেপ দেশটিকে বিশ্বের সর্বাধিক সোনা মজুতকারী শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় নিয়ে যাবে।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের থেকেও বেশি সোনা!
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পোল্যান্ডের হাতে ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তুলনায় বেশি সোনা রয়েছে। গত নভেম্বরেই তারা অতিরিক্ত ১২ টন সোনা কিনেছে, ফলে মোট ভাণ্ডার বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৪৩ টন—যা সেই সময় মোট রিজার্ভের প্রায় ২৮ শতাংশ।
দুই দশকে বিপুল পরিবর্তন
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৬ সালে পোল্যান্ডের কাছে ছিল মাত্র ১৪ টন সোনা। এরপর ধাপে ধাপে রিজার্ভ নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়। ২০২১ সালে প্রথম বড় লক্ষ্য নির্ধারণ, ২০২৪ সালে তা সংশোধন এবং এখন আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার পথে হাঁটছে দেশটি।
কেন সোনার উপর এত জোর?
গভর্নর গ্লাপিনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, সোনা দেশের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদা বাড়ায়। তাঁর কথায়, সোনা কোনও ঋণ নয়, এতে পাল্টা পক্ষের ঝুঁকি নেই এবং এটি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলও নয়। বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়েও সোনা নিজের মূল্য ধরে রাখতে সক্ষম।
ভারতের থেকে মাত্র ৯ ঘণ্টার দূরত্বে থাকা ইউরোপীয় দেশ পোল্যান্ড বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার পরিকল্পনা করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আরও ১৫০ টন সোনা কিনলে মোট ভাণ্ডার পৌঁছতে পারে প্রায় ৭০০ টনে। এর ফলে বিশ্বে সর্বাধিক সোনা মজুতকারী শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় ঢোকার পথে তারা।













