বর্তমান সময়ে বিনিয়োগের জন্য বাজারে নানা বিকল্প থাকলেও নিরাপত্তা এবং নিশ্চিত রিটার্নের কথা মাথায় রেখে এখনও বহু মানুষ ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (FD) কিংবা সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পের উপর ভরসা রাখেন। এমন পরিস্থিতিতে পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট (TD) স্কিম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ, এই সরকারি প্রকল্পে এমন সুদের হার দেওয়া হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্কের সাধারণ FD-র তুলনায় বেশি আকর্ষণীয়। ফলে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
![]()
ব্যাঙ্ক FD-র বিকল্প হিসেবে কেন জনপ্রিয় পোস্ট অফিস TD?
পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট স্কিম সম্পূর্ণ সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত হওয়ায় এখানে মূলধন হারানোর কোনও আশঙ্কা থাকে না। বাজারের ওঠানামা বা শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কোনও প্রভাব এই প্রকল্পে পড়ে না। সুদের হার সরকার নির্ধারণ করে এবং সেই অনুযায়ী বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট সময় শেষে নিশ্চিত রিটার্ন পান। ফলে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সঞ্চয়কারীদের কাছে এই প্রকল্প অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
মাত্র ১,০০০ টাকা থেকেই শুরু করা যাবে বিনিয়োগ
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হল, খুব কম অর্থ দিয়েই বিনিয়োগ শুরু করা যায়। দেশের যে কোনও পোস্ট অফিসে মাত্র ১,০০০ টাকা জমা করেই টাইম ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। একই সঙ্গে এই স্কিমে বিনিয়োগের কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই। ফলে ছোট সঞ্চয়কারী থেকে বড় বিনিয়োগকারী—সকলেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা রাখতে পারেন।
মেয়াদ অনুযায়ী কত সুদ মিলছে?
বর্তমানে পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিমে চার ধরনের মেয়াদের সুবিধা রয়েছে।
১ বছরের জন্য – ৬.৯ শতাংশ
২ বছরের জন্য – ৭.০ শতাংশ
৩ বছরের জন্য – ৭.১ শতাংশ
৫ বছরের জন্য – ৭.৫ শতাংশ
বিশেষ করে ৫ বছরের মেয়াদে ৭.৫ শতাংশ সুদের হার এই প্রকল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অনেক সাধারণ ব্যাঙ্ক FD-র তুলনায় এই হার বেশি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে।
![]()
৩ লক্ষ টাকা রাখলে কত টাকা ফেরত পাবেন?
যদি কোনও ব্যক্তি ৩ বছরের জন্য ৩ লক্ষ টাকা পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিমে বিনিয়োগ করেন, তাহলে বর্তমান ৭.১ শতাংশ সুদের হারে মেয়াদ শেষে প্রায় ৭০,৫৫১ টাকা সুদ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, তিন বছর পর মোট ফেরতের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩,৭০,৫৫১ টাকা। নিশ্চিত আয়ের এই সুবিধাই প্রকল্পটির অন্যতম বড় আকর্ষণ।
ব্যাঙ্ক FD-এর তুলনায় আর কী কী সুবিধা রয়েছে?
অনেক ব্যাঙ্কে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত সুদের সুবিধা থাকলেও সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সুদের হার তুলনামূলক কম হয়। কিন্তু পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিমে সব বিনিয়োগকারীর জন্য একই সুদের হার প্রযোজ্য। এছাড়া সরকারি সুরক্ষা থাকায় মূলধন এবং সুদ—দুটিই নিরাপদ থাকে। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়, অবসরকালীন পরিকল্পনা কিংবা পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সংরক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই এই প্রকল্প কার্যকর হতে পারে।
![]()
বিনিয়োগের আগে কী বিষয় মাথায় রাখবেন?
যদিও পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিম নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য, তবুও সুদের হার সময়ে সময়ে সরকার পরিবর্তন করতে পারে। তাই নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার আগে নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে গিয়ে বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে সর্বশেষ সুদের হার ও নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত। নিজের আর্থিক লক্ষ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী মেয়াদ নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
![]()
নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে থাকা গ্রাহকদের জন্য পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট (TD) স্কিম হতে পারে অন্যতম সেরা বিকল্প। সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত এই প্রকল্পে ১, ২, ৩ ও ৫ বছরের মেয়াদে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ৫ বছরের মেয়াদে সর্বোচ্চ ৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ মিলছে। মাত্র ১,০০০ টাকা থেকেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, আবার বিনিয়োগের কোনও সর্বোচ্চ সীমাও নেই।











