পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সারাক্ষণ ক্লান্তি, হঠাৎ পেশিতে টান, হাত-পা অবশ লাগা বা বুক ধড়ফড়—এসবকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এগুলো শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতির ইঙ্গিতও হতে পারে। পটাশিয়াম শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রোলাইট, যা স্নায়ু, পেশি, হৃদ্যন্ত্র এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এর ঘাটতি দীর্ঘদিন থাকলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পটাশিয়াম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
পটাশিয়াম একটি অপরিহার্য মিনারেল ও ইলেকট্রোলাইট। এটি শরীরের কোষে পুষ্টি পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, পেশির কার্যক্ষমতা বজায় রাখে, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্বাভাবিক হৃদ্স্পন্দন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.৫ mmol/L-এর নিচে নেমে গেলে তাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলা হয়।
পটাশিয়াম কমে গেলে শরীর যেসব লক্ষণ জানায়
সবসময় ক্লান্তি ও দুর্বলতা
যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি সারাদিন দুর্বল লাগে বা শক্তি না থাকে, তাহলে তা পটাশিয়ামের ঘাটতির অন্যতম লক্ষণ হতে পারে।
পেশিতে টান ও হাত-পা ঝিনঝিন
পায়ে বা হাতে বারবার খিঁচুনি ধরা, পেশিতে ব্যথা, ঝিনঝিন অনুভূতি কিংবা অসাড়তা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন পটাশিয়াম কম থাকলে পেশির দুর্বলতাও বাড়তে পারে।
হজমের সমস্যা
কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব কিংবা হজমে সমস্যা—এসব উপসর্গও পটাশিয়ামের ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন
হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা, হৃদ্স্পন্দনের ছন্দ বদলে যাওয়া বা বারবার পেশি কেঁপে ওঠার মতো সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
মাথা ঝিমঝিম ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া
মাথা ভার লাগা, মনোযোগের অভাব, কাজের আগ্রহ কমে যাওয়া বা সারাক্ষণ ঝিমুনি ভাব থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
পটাশিয়ামের ঘাটতি দীর্ঘদিন থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
কেন কমে যায় পটাশিয়াম?
চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি কারণে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে—
দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত বমি
অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে জল ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যাওয়া
ডায়াবেটিস বা কিডনির কিছু সমস্যা
খাবারে অতিরিক্ত বা খুব কম নুন গ্রহণ
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কোন কোন খাবারে পটাশিয়াম বেশি থাকে?
খাদ্যতালিকায় নিয়মিত রাখতে পারেন—
কলা
কমলালেবু
ডাবের জল
পালং শাক
টমেটো
আলু ও মিষ্টি আলু
বিভিন্ন ধরনের ডাল ও বিনস
দই
অ্যাভোকাডো
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে পটাশিয়ামের ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না। একই ধরনের লক্ষণ অন্য অনেক রোগেও দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে বা তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনও পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ খাওয়া উচিত নয়, কারণ পটাশিয়াম খুব কম বা খুব বেশি—দুই অবস্থাই শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে শুধু দুর্বলতা নয়, পেশিতে টান, হাত-পা ঝিনঝিন, বুক ধড়ফড়, কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন এই উপসর্গ থাকলে অবহেলা না করে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।













