নীতীশের শপথদিবসে প্রশান্ত কিশোরের মৌন ব্রত, বিহার হারের দায় স্বীকার

নীতীশের শপথদিবসে প্রশান্ত কিশোরের মৌন ব্রত, বিহার হারের দায় স্বীকার

Prashant Kishor Maun Vrat: বিহার নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর একদিনের নীরবতা পালন করলেন জন সুরাজ পার্টির সুপ্রিমো প্রশান্ত কিশোর। পটনার রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নীতীশ কুমারের মুখ্যমন্ত্রী শপথের দিনে পিকে আশ্রয় নিলেন ভিটিহারওয়া গান্ধী আশ্রমে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে তিনি জানান, দলের পরাজয়ের সম্পূর্ণ দায় তিনি নিচ্ছেন এবং নিজের ব্যর্থতার আত্মসমালোচনার জন্যই এই নীরবতা পালন করছেন। তাঁর দাবি, বিহারের মানুষকে বিকল্প শাসনের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

নীতীশের শপথ, পিকের নীরবতা — প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা?

নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন ঠিক যেদিন, সেদিনই প্রশান্ত কিশোর বেছে নিলেন নীরবতার পথ। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এটি এক ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ এবং আত্মসমালোচনার মিলিত প্রকাশ।বিরোধীরাও কটাক্ষ করে বলছে, “হেরে গিয়ে পিকে চুপ।” কিন্তু বাস্তবে সেই চুপ থাকার মধ্যেই রয়েছে তাঁর বার্তা— আত্মসমালোচনা, আত্মবিশ্লেষণ এবং নতুন শুরুর প্রস্তুতি।পিকের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, পরাজয়ের পর তিনি আপাতত কর্মসূচি পুনর্মূল্যায়নে মন দেবেন।

হারের দায় নিজের ঘাড়ে নিলেন পিকে

সাংবাদিকদের সামনে পিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—আমাদের চেষ্টায় ঘাটতি ছিল। মানুষ যদি গ্রহণ না করেন, তার দায় আমার।”বিহারবাসীর কাছে নিজের বক্তব্য পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়াকেই দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।তাঁর মতে, বিকল্প প্রশাসন কেন প্রয়োজন, কেন জন সুরাজ পার্টিকে সুযোগ দেওয়া উচিত— সে কথা ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে তিনি সফল হননি।তবুও লড়াই ছাড়ছেন না তিনি। বরং আরও আগ্রহী হয়ে তিনি পুনরায়  ধরতে চান।

২৪৫ আসনে লড়াই, কিন্তু শূন্য— পিকের কৌশলের ব্যর্থতা

জন সুরাজ পার্টি মোট ২৩৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েও কোনও আসন জিততে পারেনি।বৃহৎ প্রচার, পায়ে হেঁটে গ্রাম-গ্রাম চষে বেড়ানো— কিছুই ফল দেয়নি।পিকের নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার হুঁশিয়ারিও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।এতে অনেকেই মনে করছেন, তাঁর রাজনৈতিক কৌশল এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড়সড় ফাঁক রয়ে গিয়েছিল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠন দুর্বল, নেতৃত্ব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এবং ভোটারদের মন জয়ের মতো বার্তা তৈরি হয়নি।

আশ্রমে মৌন ব্রত— আত্মসমালোচনা না রাজনৈতিক নাটক?

ভিটিহারওয়া গান্ধী আশ্রমে বসে একদিনব্যাপী নীরবতা পালন করেন পিকে।

কেউ কেউ বলছেন, এটি তাঁর রাজনৈতিক ইমেজ পুনর্গঠনের কৌশল;

আবার কেউ মনে করছেন, সত্যিই পরাজয়ের পর তিনি আত্মসমালোচনায় লিপ্ত।

গান্ধীবাদী নীরবতা বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি হয়তো ইঙ্গিত দিচ্ছেন—পরাজয় মানেই শেষ নয়, বরং আরও শক্তভাবে ফেরার প্রস্তুতি।

বিহার নির্বাচনে ভরাডুবির দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। নীতীশ কুমারের মুখ্যমন্ত্রী শপথের দিন তিনি ভিটিহারওয়া গান্ধী আশ্রমে গিয়ে সারাদিনের মৌন ব্রত পালন করেন। পিকে বলেন, বিহারের মানুষ তাঁর বার্তা গ্রহণ করতে না পারায় তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন।

Leave a comment