সুন্দরবনের রোমাঞ্চ মানেই এতদিন দক্ষিণবঙ্গের গহিন অরণ্য—এই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর ব্লকে অবস্থিত রঞ্জনডি জলাধার, যা স্থানীয়দের কাছে যোগমায়া সরোবর নামে পরিচিত, এখন পরিচিতি পাচ্ছে ‘পুরুলিয়ার মিনি সুন্দরবন’ হিসেবে। নতুন বছরের ছুটিতে ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চাইলে এই অফবিট গন্তব্য হতে পারে আদর্শ পছন্দ।
জঙ্গল-জল-পাহাড়ে মোড়া স্বর্গীয় পরিবেশ
যদিও প্রকৃত সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ অরণ্য এখানে নেই, তবু বিস্তীর্ণ সোনাইজুড়ি জঙ্গল, রঞ্জনডি ড্যামের শান্ত জলরাশি ও দূরের পাহাড় মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক স্বপ্নময় পরিবেশ। পাখির ডাক, নির্জনতা আর সবুজের ছায়ায় মন যেন আপনাআপনি হালকা হয়ে যায়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটন হাব
গত পাঁচ বছরে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যোগমায়া সরোবরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকদের থাকার জন্য কটেজ, খাবারের রেস্টুরেন্ট, পরিচ্ছন্ন শৌচালয় ও পিকনিকের সুব্যবস্থা এই জায়গাকে পরিবার ও বন্ধুদের ভ্রমণের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
শিশুদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ
সম্প্রতি পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম সংযোজন একটি অত্যাধুনিক চিলড্রেনস পার্ক। দোলনা, স্লাইড, সি-শো সহ নানা খেলার সরঞ্জাম শিশুদের আনন্দ দ্বিগুণ করছে, ফলে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য জায়গাটি আরও উপযোগী হয়ে উঠেছে।
সেলফি পয়েন্টে জমজমাট পরিবেশ
‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো সহ ‘আই লাভ কাশীপুর’ সেলফি পয়েন্ট এবং রঙিন সাজসজ্জা যোগমায়া সরোবরকে করে তুলেছে ফটোগ্রাফি প্রেমীদের স্বর্গ। প্রকৃতির পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য পারফেক্ট ফ্রেম খুঁজে পাচ্ছেন পর্যটকরা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় পর্যটন কেন্দ্র
কাশীপুর বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বেলথরিয়া জানিয়েছেন, এই এলাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, আগামী দিনে যোগমায়া সরোবর পুরুলিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা সহজ?
পুরুলিয়া সদর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ। আদ্রা রেলশহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে কাশীপুর। সেখান থেকে ১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায় রঞ্জনডি জলাধারে। রাস্তার অবস্থাও ভালো, যাত্রাপথ জুড়েই চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক দৃশ্য।
দক্ষিণবঙ্গ নয়, সুন্দরবনের অনুভূতি এবার মিলবে পশ্চিমবঙ্গে। পুরুলিয়ার কাশীপুর ব্লকের রঞ্জনডি জলাধার বা যোগমায়া সরোবর এখন পর্যটকদের কাছে পরিচিত ‘মিনি সুন্দরবন’ নামে। নির্জন প্রকৃতি, ড্যাম, জঙ্গল আর পাহাড়ের মেলবন্ধনে এই অফবিট গন্তব্য নতুন বছরের ছুটিতে মন কাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের।













