ভারত সফরের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন রাজঘাটে পৌঁছে মহাত্মা গান্ধীকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। তিনি ভিজিটর বুকে স্বাক্ষর করে গান্ধীজির শান্তি, সমতা এবং মানবতার নীতিগুলিকে বৈশ্বিক গুরুত্ব দেন।
নয়াদিল্লি: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে রাজঘাটে পৌঁছান, যেখানে তিনি জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন এবং এক শান্তিপূর্ণ বিশ্বের প্রতি তাঁর ভাবনাকে শ্রদ্ধা জানান। এই সময় পুতিন ভিজিটর বুকে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁর মন্তব্যের মাধ্যমে গান্ধীজির চিন্তাভাবনাকে বৈশ্বিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। নয়াদিল্লিতে এই অনুষ্ঠানটি তাঁর সরকারি সফরের একটি প্রধান অংশ ছিল।
রাজঘাটে পুতিনের উপস্থিতি
রাজঘাটে পৌঁছে পুতিন মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর সাথে রাশিয়ান প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল অনুযায়ী পরিচালিত হয়। পুতিনের এই পদক্ষেপ ভারতের প্রতি সম্মান এবং গান্ধীজির বিশ্ব-শান্তির দর্শনের প্রতি তাঁর প্রশংসাকে প্রতিফলিত করে।
ভিজিটর বুকে পুতিনের মন্তব্য
রাজঘাট সফরের সময় পুতিন ভিজিটর বুকে তাঁর চিন্তাভাবনা লেখেন, যেখানে তিনি গান্ধীকে আধুনিক ভারতের স্থপতিদের মধ্যে এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। পুতিন লেখেন যে মহাত্মা গান্ধী একজন মহান দার্শনিক এবং মানবতাবাদী ছিলেন, যাঁর অবদান বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্বাধীনতা, শুভবোধ এবং মানবতার বিষয়ে গান্ধীজির ধারণা আজও প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়।
![]()
তিনি আরও লেখেন যে গান্ধীজি এমন একটি আরও ন্যায়পরায়ণ বিশ্বের নির্মাণের কল্পনা করেছিলেন যা স্বৈরাচার ও আধিপত্য থেকে মুক্ত হবে। পুতিনের মতে, লিও টলস্টয়কে লেখা গান্ধীজির চিঠিতে সমতা, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সম্মানের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের বিশ্বের একটি স্পষ্ট ঝলক পাওয়া যায়। এইগুলিই সেই নীতি যা ভারত ও রাশিয়া আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
গান্ধীজির চিন্তাভাবনার উল্লেখ
পুতিনের মন্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে গান্ধীজির দর্শন কেবল ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বৈশ্বিক চিন্তাভাবনাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি গান্ধীজির অহিংসা, সমতা এবং মানবতার নীতিগুলিকে আধুনিক সময়েও অপরিহার্য বলে বর্ণনা করেন। পুতিনের এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে আদর্শগত নৈকট্যকেও তুলে ধরে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বিশ্ব বহু ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা
রাজঘাটের অনুষ্ঠানের পর রাষ্ট্রপতি ভবনে পুতিনকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে স্বাগত জানান এবং তিন বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে গার্ড অফ অনার প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা দুই দেশের গভীর সম্পর্কের প্রতীক ছিল।











