বকেয়া টাকা না মেটানোর অভিযোগে রাজ্যের দুই আমলার নামে হাইকোর্টে রুল

বকেয়া টাকা না মেটানোর অভিযোগে রাজ্যের দুই আমলার নামে হাইকোর্টে রুল

Calcutta High Court: ২০১০ সালে রায়গঞ্জ পুরসভা এলাকায় রাস্তা, হস্টেল ও জল সরবরাহ প্রকল্পে কাজ করা ঠিকাদারের প্রায় ৮০ লাখ টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। একাধিক রায় সত্ত্বেও তা মিটেনি। এই ঘটনায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ—বিচারপতি রাজা শেখর মান্থা ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্ত—রাজ্যের অর্থ সচিব ও পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিবের নামে রুল জারি করেন। ৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানিতে তারা বকেয়া মেটানোর কৈফিয়ত দিতে বাধ্য হবেন।

২০১০ সালের প্রকল্প ও বকেয়া টাকা

ঠিকাদার ২০১০ সালে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছেন। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রায়গঞ্জের রাস্তা, হস্টেল ও জল সরবরাহ। প্রায় ১৫ বছর পরেও তাঁকে ৮০ লাখ টাকার বকেয়া দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারের আইনজীবী গৌতম ঠাকুর জানিয়েছেন, কাজের সময় কংগ্রেসের পুরবোর্ড চেয়ারম্যান ছিলেন মোহিত সেনগুপ্ত।

অভিযোগ ও ফরেনসিক রিপোর্ট

মোহিত সেনগুপ্তের মেয়াদ শেষের পরে ২০১৭ সালে এসডিওকে প্রশাসক করা হয়। মোহিতের বিরুদ্ধে টাকা তছরুপ ও প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২০১৯ সালে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে রিপোর্টে ঠিকাদারদের প্রকল্পে কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

হাইকোর্টে মামলা ও নির্দেশ

২০২৩ সালে বকেয়া টাকা না মেটানোর কারণে হাইকোর্টে মামলা হয়। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে শুনানিতে রাজ্য অভিযোগ করে যে ২০১০ সালে অনুমতি ছাড়াই প্রকল্প করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে বলেন, পুর দপ্তর ওই টাকা মেটাতে বাধ্য। সিঙ্গল বেঞ্চও অর্থ সচিবকে দ্রুত টাকা মেটানোর নির্দেশ দেয়।

ডিভিশন বেঞ্চের রুল

পুরসভা চ্যালেঞ্জ করলে ডিভিশন বেঞ্চ পুনরায় রুল জারি করে। ৩ নভেম্বর পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যের দুই শীর্ষ আমলাকে বকেয়া মেটানোর কৈফিয়ত দিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, সরকারি খাত থেকে টাকা মেটানোর পর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পুরসভা থেকে ফেরার দাবিও করা যেতে পারে।

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ পুরসভা এলাকায় ২০১০ সালে প্রকল্পের কাজ করা ঠিকাদারের প্রায় ৮০ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। রাজ্যের অর্থ সচিব ও পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিবকে ৩ নভেম্বরের শুনানিতে বকেয়া টাকা মেটানোর কৈফিয়ত দিতে হবে।

Leave a comment