৪৮ বছর পরও গা শিউরে ওঠে! দিল্লির কুখ্যাত রঙ্গা-বিল্লা কাণ্ডে কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল গীতা-সঞ্জয়, কেন নাড়িয়ে দেয় দেশকে?

১৯৭৮ সালের কুখ্যাত রঙ্গা-বিল্লা কাণ্ডে কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল গীতা ও সঞ্জয় চোপড়া? কেন আজও ভারতের অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে স্মরণ করা হয় এই ঘটনাকে? বিস্তারিত প্রতিবেদনে জানুন।

রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। ১৯৭৮ সালের ২৬ অগাস্টের সেই ঘটনা শুধু দিল্লি নয়, সমগ্র ভারতকে নাড়া দিয়েছিল। গীতা চোপড়া ও সঞ্জয় চোপড়ার অপহরণ এবং হত্যাকাণ্ড পরবর্তীকালে ‘রঙ্গা-বিল্লা কেস’ নামে পরিচিত হয়, যা আজও দেশের অন্যতম ভয়াবহ অপরাধের উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়।

৪৮ বছর পরও গা শিউরে ওঠে! দিল্লির কুখ্যাত রঙ্গা-বিল্লা কাণ্ডে কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল গীতা-সঞ্জয়, কেন নাড়িয়ে দেয় দেশকে?
রেডিও অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে আচমকা নিখোঁজ

গীতা চোপড়া ছিলেন ১৬ বছরের কিশোরী এবং তাঁর ভাই সঞ্জয়ের বয়স ছিল মাত্র ১৩। সেদিন সন্ধ্যায় অল ইন্ডিয়া রেডিওর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল তারা। পরিবারের সদস্যরা রাত ৮টায় রেডিওতে গীতার কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পরও গীতার কোনও খোঁজ মেলেনি। পরে জানা যায়, দুই ভাইবোন কখনও রেডিও স্টেশনে পৌঁছায়নি।

তদন্তে উঠে আসে ভয়ঙ্কর অপহরণের ছক

তদন্তে জানা যায়, সেই সময় দিল্লির রাস্তায় একটি চুরি করা গাড়ি নিয়ে ঘুরছিল কুলজিৎ সিং ওরফে রঙ্গা এবং জসবীর সিং ওরফে বিল্লা। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল। গীতা ও সঞ্জয়কে লক্ষ্য করে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে আদালতে উঠে আসে যে গাড়ির দরজাও এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল যাতে ভেতরে ঢোকার পর সহজে বের হওয়া না যায়।

৪৮ বছর পরও গা শিউরে ওঠে! দিল্লির কুখ্যাত রঙ্গা-বিল্লা কাণ্ডে কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল গীতা-সঞ্জয়, কেন নাড়িয়ে দেয় দেশকে?
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছিল দুই ভাইবোন

তদন্ত ও আদালতের নথি অনুযায়ী, অপহরণের পর দীর্ঘ সময় ধরে দুই ভাইবোনকে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে অভিযুক্তরা জানতে পারে যে তারা একজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তার সন্তান। এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মোড় নেয়। বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে আসে যে গীতা ও সঞ্জয় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিল।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন

ঘটনার সময় একাধিক ব্যক্তি সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন বলে পরে জানা যায়। কিন্তু দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে আদালতও মন্তব্য করে যে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো দুই কিশোর-কিশোরীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতে পারত।

৪৮ বছর পরও গা শিউরে ওঠে! দিল্লির কুখ্যাত রঙ্গা-বিল্লা কাণ্ডে কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল গীতা-সঞ্জয়, কেন নাড়িয়ে দেয় দেশকে?
দেশজুড়ে ক্ষোভ, অভিযুক্তদের গ্রেফতার

ঘটনার পর গোটা দেশে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কয়েক সপ্তাহ আত্মগোপন করে থাকার পর রঙ্গা ও বিল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। বিচার প্রক্রিয়ায় অপহরণ, হত্যা এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দিল্লি হাইকোর্ট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত রায় বহাল থাকে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, কিন্তু স্মৃতি আজও অমলিন

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হওয়ার পর ১৯৮২ সালের ৩১ জানুয়ারি দিল্লির তিহাড় জেলে দুই অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তবে বিচার শেষ হলেও গীতা ও সঞ্জয়ের করুণ পরিণতির স্মৃতি ভারতীয় সমাজকে আজও নাড়া দেয়।

৪৮ বছর পরও গা শিউরে ওঠে! দিল্লির কুখ্যাত রঙ্গা-বিল্লা কাণ্ডে কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল গীতা-সঞ্জয়, কেন নাড়িয়ে দেয় দেশকে?
১৯৭৮ সালের দিল্লির রঙ্গা-বিল্লা কাণ্ড ভারতের অন্যতম আলোচিত ও নৃশংস অপরাধ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। কিশোরী গীতা চোপড়া ও তাঁর ভাই সঞ্জয় চোপড়ার অপহরণ ও হত্যার ঘটনা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করেছিল। প্রায় পাঁচ দশক পরও এই মামলার স্মৃতি মানুষের মনে আতঙ্ক ও বেদনার জন্ম দেয়।

 

Leave a comment