রুপোর বাজারে অভূতপূর্ব উল্লম্ফন। মাত্র কয়েক মাসেই প্রতি কেজি রুপোর দাম ৯৫,০০০ টাকা থেকে লাফ দিয়ে ১.৮০–১.৯১ লক্ষে পৌঁছেছে। শিল্প খাতে অতিরিক্ত চাহিদা এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ প্রবণতা এই উত্থানের প্রধান কারণ। তবে বিনিয়োগকারীরা এখন বড় দ্বিধায়—এখনই লাভ তুলে নেবেন, নাকি অপেক্ষা করবেন আরও উত্থানের আশায়?
দেড় গুণ দামে রুপো: বাজারে নজিরবিহীন উত্থান
পিছুটা বছরের তুলনায় রুপোর দাম এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা সাধারণত বাজারে বড় তেজি প্রতিযোগিতা বা বৈশ্বিক আর্থিক টানাপোড়েনের সময়ই দেখা যায়। গত বছর প্রতি কেজি রুপো মিলত প্রায় ৯৫,৭০০ টাকায়। এখন সেই দাম দৌড়ে পৌঁছেছে ১.৮০ লক্ষ থেকে ১.৯১ লক্ষ টাকার মধ্যে। হিসেব বলছে, মাত্র ৬–৮ মাসে দাম বেড়েছে প্রায় দেড় গুণ।

কেন বাড়ছে দাম? সরবরাহ–চাহিদা অসমতার জোরালো প্রভাব
অর্থ বিশেষজ্ঞ রমন সচদেব জানিয়েছেন, রুপোর দাম বাড়া মোটেই আকস্মিক নয়। রুপো আলাদা ভাবে খনন করা হয় না—এটি দস্তা ও সীসা খননের উপজাত। ফলে এর সরবরাহ সীমিতই থাকে। অন্যদিকে, শিল্প খাতে রুপোর চাহিদা দিনে দিনে বহুগুণ বাড়ছে। এই সরবরাহ-চাহিদা অসমতাই দাম বৃদ্ধির মূল চালক।
শিল্পক্ষেত্রে রুপোর বিস্ফোরক চাহিদা
রুপো আজ শুধু তৈজসপত্র বা গয়নার ধাতু নয়—
এটি এখন ইন্ডাস্ট্রির প্রাণশক্তি।
রুপোর ব্যবহার বাড়ছে—
বৈদ্যুতিক যানবাহনে
সৌর প্যানেল তৈরিতে
মোবাইল, ল্যাপটপ ও চিপসেটে
LED ঘড়ি ও ইলেকট্রোনিক্সে
বিশ্বজুড়ে সৌরশক্তির চাহিদা বাড়া রুপোর বাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে রুপো—‘নতুন সেফ হেভেন’
বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনার সঙ্গে রুপো-ও সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। রাশিয়া গত বছর রুপো কেনার জন্য একাই বরাদ্দ করেছিল ৫৪৫ মিলিয়ন ডলার।ডলারের প্রতি আস্থা কমায় রুপো এখন অনেকের কাছেই সোনার বিকল্প নিরাপদ বিনিয়োগ।
ভবিষ্যতে দাম আরও কত বাড়তে পারে?
রমন সচদেবের পূর্বাভাস—
২০২৫-এর শেষে: প্রতি কেজি রুপো ₹২,০০,০০০
২০২৬-এ: দাম ছুঁতে পারে ₹২,২০,০০০
তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন—
রুপো অত্যন্ত অস্থির ধাতু।
তাই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে ঝুঁকি অনিবার্য। স্বল্প মেয়াদের মুনাফা টার্গেট করে বিনিয়োগ করাই ভালো।
বাজারে গ্রাহকের আগ্রহ কমছে: উচ্চ দামে পকেট চাপে
মূল্য বৃদ্ধি এতটাই দ্রুত যে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। দিল্লির শতাব্দী-প্রাচীন পাইকারি রুপোর বাজার কুচা মহাজনি-তে দোকানদাররা জানাচ্ছেন—গ্রাহকের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।আগে যেখানে ৫০,০০০–১,০০,০০০ টাকায় গয়না কেনা হত, এখন সেই বাজেটে কিছুই পাওয়া কঠিন।

প্রতি সেকেন্ডে দাম বদলাচ্ছে: ব্যবসায়ীরা দিশেহারা
পাইকার ব্রিজমোহন গুপ্তার দাবি—দাম এত দ্রুত ওঠানামা করছে যে প্রতিদিনের ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে উঠছে। ব্যাঙ্ক থেকে ৩০ কেজির রুপোর বার কাটতে কাটতে মূল্যই বদলে যায়।
তবুও বর্তমানে জনপ্রিয় হচ্ছে—
৯২.৫ হলমার্ক চুড়ি
নূপুর
পায়ের আংটি
ছোট মূর্তি
পুজোর সামগ্রী
রুপোর ওপর নজর রেখে চোরেরাও!
উচ্চ দামে রুপো চুরির ঘটনাও বাড়ছে। মাত্র কয়েক মাস আগে ব্রিজমোহন গুপ্তার দোকান থেকে রুপো চুরি হয়েছিল এবং এখনো উদ্ধার হয়নি। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—রুপোর দামের উত্থান অপরাধ জগতেও আগ্রহ বাড়িয়েছে।

বিগত ৬–৮ মাসে রুপোর দাম প্রায় দেড় গুণ বেড়ে গেছে। চাহিদা হঠাৎ উলম্বভাবে বাড়ায় এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি। এবার প্রশ্ন—এখনই কি রুপো বিক্রি করা উচিত, নাকি বিনিয়োগ ধরে রাখা ভাল? বিশেষজ্ঞরা সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন।












