তেঁতুল মানেই টক— এমন ধারণা বহুদিনের। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে নতুন প্রজাতির লাল মিষ্টি তেঁতুল। বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ তেঁতুলের মতো হলেও ভেতরে রয়েছে সিঁদুর লাল রঙের শাঁস এবং স্বাদে টক-মিষ্টির অনন্য মিশ্রণ। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই ফল, আর বসিরহাটে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু হতেই তা কৃষকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
লাল শাঁসের আকর্ষণ, স্বাদে আলাদা বৈশিষ্ট্য
এই বিশেষ তেঁতুলের বাইরের অংশ ধূসর-সবুজ হলেও ভেতরে থাকে উজ্জ্বল লাল রঙের শাঁস। সাধারণ তেঁতুলের তুলনায় এর স্বাদ অনেকটাই আলাদা— টক ও মিষ্টির মিশ্রণে তৈরি এক অনন্য স্বাদ। ফলে আচার, চাটনি বা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করার জন্য এই তেঁতুল দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শুধু স্বাদই নয়, এর পুষ্টিগুণও বেশ ভালো বলে জানা গেছে।
কম যত্নে ভালো ফলন
চাষের দিক থেকেও এই প্রজাতির তেঁতুল বেশ সুবিধাজনক। সাধারণত ফুল থেকে ফল হতে প্রায় সাত মাস সময় লাগে। বর্ষা ও শীতের শেষভাগে বছরে প্রায় দু’বার ফলন পাওয়া যায়। গাছের তেমন বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না— নিয়মিত জল দেওয়া এবং মাসে একবার সরষের খোল মিশ্রিত পচা জল দিলেই গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
চারা রোপণের নিয়মই সাফল্যের চাবিকাঠি
তবে এই গাছ লাগানোর সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হয়। সঠিক জায়গা নির্বাচন এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চারা লাগালে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফলনও ভালো হয়। অনেক চাষির মতে, গাছের যত্নের তুলনায় সঠিকভাবে চারা রোপণ করাই এই চাষের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
বসিরহাটে পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে একটি উদ্যানে পরীক্ষামূলকভাবে এই তেঁতুল গাছ লাগানো হয়েছে। উদ্যানে এখন গাছে গাছে থোকা থোকা তেঁতুল ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। লাল শাঁসের এই তেঁতুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি স্বাদেও আলাদা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও এর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
বাণিজ্যিক চাষে নতুন সম্ভাবনা
এই চাষের উদ্যোক্তা Aminur Islam জানান, পরীক্ষামূলকভাবে গাছ লাগিয়ে বেশ ভালো ফলন পাওয়া গেছে। সাধারণ তেঁতুলের তুলনায় এই তেঁতুল আকারে বড় এবং ভেতরে লাল শাঁসযুক্ত। ভাল ফলনের কারণে এবার বাণিজ্যিকভাবে এই তেঁতুল চাষের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চারাগাছ বিক্রির মাধ্যমেও স্বনির্ভর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনার Basirhat এলাকায় নতুন প্রজাতির লাল মিষ্টি তেঁতুল চাষ কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করছে। কম পরিচর্যা, ভালো ফলন এবং বাজারে সম্ভাব্য উচ্চ চাহিদার কারণে এই চাষ ভবিষ্যতে কৃষকদের আয়ের নতুন পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।











