প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানের আসনবিন্যাস ও গামোছা বিতর্কে কংগ্রেস ও বিজেপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নয়াদিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানে আসনবিন্যাস এবং রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনায় গামোছা না পরাকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে আসনবিন্যাসকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস ও বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করেছে।

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত জাতীয় প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্যারেড গ্রাউন্ড পর্যন্ত আসনবিন্যাসকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে বিরোধী নেতাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে অভিযোগ করেন, প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানে বিরোধী নেতাদের তৃতীয় সারিতে বসানো হয়েছে, যেখানে তাঁদের জ্যেষ্ঠতা ও সাংবিধানিক প্রথা অনুযায়ী সামনের সারিতে বসার কথা ছিল। তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত অপমানের বিষয় নয়, বরং সংবিধানের মর্যাদার প্রশ্ন।

খড়গের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দেশের অন্যতম জ্যেষ্ঠ বিরোধী নেতা হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য মন্ত্রীদের সঙ্গে তৃতীয় সারিতে বসতে বাধ্য হন। তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীদের দুর্বল দেখানোর উদ্দেশ্যেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

খড়গে বলেন, দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক উৎসবেও যদি বিরোধীদের সম্মান নিশ্চিত না করা যায়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তাঁরা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি শুধু কংগ্রেস নয়, গোটা বিরোধী শিবিরের অপমান।

কংগ্রেসের অভিযোগের জবাবে বিজেপি রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পৃথক একটি বিষয় সামনে আনে। বিজেপির দাবি, ওই অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী অসমীয়া গামোছা বা পাটকা না পরে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতির অবমাননা করেছেন।

বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশি অতিথিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সবাই ঐতিহ্যবাহী পাটকা পরেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধীর পাটকা না পরাকে ইচ্ছাকৃত অবহেলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সময় বদলালেও কংগ্রেস নেতৃত্বের মনোভাব বদলায়নি। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর আচরণ উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের প্রতি অসংবেদনশীলতার প্রতিফলন।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতে, গামোছা কেবল একটি বস্ত্র নয়, বরং অসম ও সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। রাষ্ট্রপতি ভবনের অনুষ্ঠানে এটি না পরা আঞ্চলিক অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

গামোছা বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে বলেন, রাহুল গান্ধী গামোছা পরেছিলেন এবং খাবারের সময় সেটি ভাঁজ করে রেখেছিলেন। তাঁর দাবি, বিজেপি অযথা বিষয়টি বড় করে দেখাচ্ছে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, আসনবিন্যাস বা গামোছা বিতর্ক—উভয় বিষয়ই বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তাদের মতে, বিরোধীদের ঘেরাও ও বদনাম করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই বিতর্ক সামনে আনা হয়েছে।

এই ঘটনাক্রমে জাতীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসের দাবি, প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো অনুষ্ঠানে সব দল ও নেতার সমান সম্মান পাওয়া উচিত।

বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসনবিন্যাস নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী করা হয় এবং এতে কোনও রাজনৈতিক বৈষম্য ছিল না। বিজেপির মতে, কংগ্রেস অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে এবং গামোছা না পরার বিষয়টি একটি প্রকৃত প্রশ্ন, যা উপেক্ষা করা যায় না।

 

Leave a comment