জঙ্গলের পরিবেশ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর এখন নতুন ঠিকানা নন্দনকানন চিড়িয়াখানা। সেখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে বালেশ্বর থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচ ওরাংওটাং। তাদের পরিচর্যার ছবি সামনে আসতেই নজর কেড়েছে ছোট প্রাণীগুলির স্বাভাবিক আচরণ। কখনও টেডি বিয়ার নিয়ে খেলছে, কখনও আবার নিজের হাতেই দুধের বোতল ধরে পান করছে তারা। বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চলছে তাদের নিয়মিত পরিচর্যা।
নন্দনকাননে চলছে বিশেষ নজরদারি
বালেশ্বরের ভোগরাই-বিচিত্রাপুরের জঙ্গল এলাকা থেকে উদ্ধার করার পর পাঁচটি ওরাংওটাংকে নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি খাবার এবং আচরণগত পরিবর্তনের উপরও নজর রাখা হচ্ছে।সম্প্রতি টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা তাদের পরিচর্যার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যার ব্যবস্থা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা দেখেন তাঁরা।
কর্মীর হাত ধরতে এগিয়ে এল ছোট ওরাংওটাং
পরিদর্শনের সময় নজরে আসে একটি আবেগঘন দৃশ্য। সুরক্ষামূলক পোশাক পরা এক কর্মীর হাতের দিকে এগিয়ে আসে ছোট একটি ওরাংওটাং।মানুষের পরিচর্যার মধ্যে থাকার কারণে প্রাণীটির এই ধরনের আচরণ নজর কেড়েছে। উদ্ধার হওয়ার পর নতুন পরিবেশে তাদের ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াতেও মানুষের যত্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টেডি বিয়ার নিয়ে খেলছে, হাতে দুধের বোতল
উদ্ধার হওয়া পাঁচ ওরাংওটাংয়ের পরিচর্যার বেশ কিছু ছবি সামনে এসেছে। সেখানে কখনও তাদের টেডি বিয়ার নিয়ে খেলতে দেখা যাচ্ছে। আবার কোনও কোনও সময় নিজের হাতেই দুধের বোতল ধরে পান করছে তারা।ছোট প্রাণীগুলির এই আচরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমানে তারা নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে রয়েছে। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও অন্যান্য যত্নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ধীরে ধীরে খোলা পরিবেশে ফেরানোর পরিকল্পনা
বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পাঁচটি ওরাংওটাংয়ের স্বাস্থ্য ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের শারীরিকভাবে সুস্থ করে তোলার পাশাপাশি মানসিকভাবেও স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুকূল হলে তাদের ধীরে ধীরে খোলা পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উদ্ধারকাণ্ডের তদন্তেও STF
ওরাংওটাংগুলি কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছেছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় দিঘাভিত্তিক এক হোটেল মালিক জয়ন্ত মাইতি এবং তাঁর ছেলে সৌম্যদীপ মাইতির কথিত ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তাঁরা বর্তমানে পলাতক বলে জানা গিয়েছে এবং তাঁদের সন্ধানে STF-এর বিশেষ দল তল্লাশি চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হোটেল মালিকের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ
ওরাংওটাংগুলির সঙ্গে কথিত যোগসূত্রের বিষয়ে হোটেল মালিকের স্ত্রী ও মেয়েকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে STF। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেল মালিক কলকাতা এলাকার বাসিন্দা এবং প্রায় চার মাস আগে দিঘায় হোটেলটি চালু করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
নজরে থার গাড়ি, সংগ্রহ CCTV ফুটেজ
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে WB56T-0333 নম্বরের একটি থার গাড়িও। অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িটি জয়ন্ত মাইতির মালিকানাধীন।ইতিমধ্যেই হোটেল চত্বরের CCTV ফুটেজ থাকা একটি হার্ডডিস্ক STF নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়িটির গতিবিধি এবং ওরাংওটাংগুলির চলাচল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে।তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, সেই বিষয়েও সূত্র খুঁজছেন বলে জানা গিয়েছে।
বালেশ্বরের ভোগরাই-বিচিত্রাপুরের জঙ্গল এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ওরাংওটাং বর্তমানে নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের নজরদারিতে তাদের স্বাস্থ্য, খাবার এবং মানসিক অবস্থার যত্ন নেওয়া হচ্ছে। পরিচর্যার সময় কখনও তাদের টেডি বিয়ার নিয়ে খেলতে, আবার কখনও নিজের হাতে দুধের বোতল ধরে পান করতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে ওরাংওটাং উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তদন্তও চলছে। দিঘার এক হোটেল মালিক ও তাঁর ছেলের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে STF বলে জানা গিয়েছে।











