'ভাত খেলেই মোটা হওয়া যায়'—এই ধারণা বহুদিন ধরেই প্রচলিত। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনা শুরু করলেই অনেকেই ভাতকে বিদায় জানিয়ে রুটিকে বেছে নেন। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান স্নেহান্বিতা মণ্ডলের মতে, ভাত কিংবা রুটি—কোনও খাবারই একা ওজন বাড়ায় বা কমায় না। আসল পার্থক্য তৈরি করে খাবারের পরিমাণ, মোট ক্যালোরি গ্রহণ এবং জীবনযাত্রা।
![]()
রুটি ও ভাতের পুষ্টিগুণে কোথায় পার্থক্য?
পুষ্টিগুণের বিচারে রান্না করা ১০০ গ্রাম সাদা ভাতে থাকে প্রায় ১৩০ ক্যালোরি, ২৮-৩০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, প্রায় ২.৫ গ্রাম প্রোটিন এবং খুবই সামান্য ফাইবার। অন্যদিকে একটি মাঝারি আকারের আটার রুটিতে থাকে প্রায় ১১০ ক্যালোরি, ২০-২২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৪ গ্রামেরও বেশি প্রোটিন এবং প্রায় ২.৫ গ্রাম ফাইবার।রুটিতে ফাইবারের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও তুলনামূলক কম, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ে।
ওজন কমাতে রুটি কি সত্যিই এগিয়ে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে রুটি কিছুটা সুবিধাজনক হতে পারে। কারণ এতে ফাইবার বেশি থাকায় ক্ষুধা কম লাগে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। একই সঙ্গে তুলনামূলক বেশি প্রোটিন থাকায় পেশির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হয়।তবে এর অর্থ এই নয় যে ভাত খেলে ওজন কমানো অসম্ভব। নির্দিষ্ট পরিমাণে ভাত, পর্যাপ্ত ডাল, শাকসবজি ও প্রোটিনের সঙ্গে খেলে সেটিও একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর খাবার হতে পারে।
![]()
শুধু ভাত ছাড়লেই কি কমবে ওজন?
ডায়েটিশিয়ান স্নেহান্বিতা মণ্ডল স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ভাত বাদ দিয়ে রুটি খেলেই ওজন কমে যাবে—এমন ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একজন মানুষের দৈনিক মোট ক্যালোরি গ্রহণ, খাবারের পরিমাণ, পর্যাপ্ত প্রোটিন, আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত জলপান এবং নিয়মিত শরীরচর্চাই ওজন নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি।সারাদিন অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করলে শুধুমাত্র রুটি খেয়েও ওজন বাড়তে পারে। আবার পরিমিত ক্যালোরির মধ্যে থেকে ভাত খেলেও ওজন কমানো সম্ভব।
![]()
ওজন কমানোর আসল মন্ত্র কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল Portion Control এবং Balanced Diet। ভাত বা রুটির মধ্যে একটি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার পরিবর্তে নিজের বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে মিলিয়ে খাদ্যতালিকা তৈরি করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।প্রয়োজনে একজন নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে ব্যক্তিগত ডায়েট প্ল্যান অনুসরণ করলে দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়।
![]()
ওজন কমাতে অনেকেই প্রথমেই ভাত বাদ দিয়ে রুটির উপর ভরসা করেন। কিন্তু সত্যিই কি রুটি খেলেই দ্রুত ওজন কমে? ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি ভাত বা রুটি নয়, বরং সঠিক ক্যালোরি, পরিমিত খাবার এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস।








