ভাতের মাড় সবার জন্য নয়! এই ৬ ধরনের মানুষের জন্য হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ভাতের মাড় বা ফ্যান পুষ্টিকর হলেও সবার জন্য উপযোগী নয়। গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিস রোগী, কিডনি রোগী, শিশু ও হজমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কী কী সতর্কতা প্রয়োজন, জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

বাঙালির রান্নাঘরে ভাতের মাড়ের ব্যবহার বহু পুরনো। অনেকেই এটি পান করেন শক্তি বাড়ানোর জন্য, আবার কেউ ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করেন। তবে সব স্বাস্থ্যকর খাবারের মতো ভাতের মাড়ও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, রোগ এবং খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভর করে এর উপকারিতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে।ভাতের মাড় খেলে শরীরের "বিপদ নিশ্চিত"—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় এটি সীমিত বা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

ভাতের মাড়ে কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে?

ভাতের মাড়ে সাধারণত থাকে—

শ্বেতসার (স্টার্চ)

অল্প পরিমাণ বি-ভিটামিন

কিছু খনিজ

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (পরিমাণ নির্ভর করে চাল ও রান্নার পদ্ধতির উপর)

এটি শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে সহজপাচ্য পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

গর্ভবতী মহিলারা

চালে পরিবেশগত কারণে অল্পমাত্রায় আর্সেনিক থাকতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় ভাতের মাড় নিয়মিত বা অতিরিক্ত পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শিশু ও ছোট বাচ্চা

ছোট শিশুদের খাদ্যতালিকায় শুধুমাত্র ভাতের মাড়ের উপর নির্ভর না করে সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। অতিরিক্ত স্টার্চযুক্ত পানীয় নিয়মিত দেওয়ার আগে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তে শর্করার রোগী

ভাতের মাড়ে স্টার্চের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে।

তাই—ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় রাখুন।

যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্টার্চযুক্ত পানীয় খেলে—

পেট ফাঁপা

গ্যাস

অস্বস্তি

হতে পারে। এমন সমস্যা থাকলে ভাতের মাড় খাওয়ার পর শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা উচিত।

কিডনি রোগীরা

ভাতের মাড়ে পটাশিয়ামসহ কিছু খনিজ থাকতে পারে। কিডনি রোগীদের অনেক সময় পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।তাই—কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ভাতের মাড় পান না করাই ভালো।

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তি

ভাতের মাড়ে কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালোরি থাকে।অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে—মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।তবে পরিমিত পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে গ্রহণ করলে সবার ক্ষেত্রে একই প্রভাব পড়ে না।

গাঁজানো ভাতের মাড় খেলে কী সতর্কতা?

অনেকে গাঁজানো (Fermented) ভাতের মাড় পান করেন।

এক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে কি না।

দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রাখা হয়েছে কি না।

দুর্গন্ধ বা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ রয়েছে কি না।

অস্বাস্থ্যকরভাবে সংরক্ষণ করা হলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

নিরাপদে ভাতের মাড় খাওয়ার উপায়

পরিষ্কার চাল ব্যবহার করুন।

রান্নার আগে চাল ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

পরিমিত পরিমাণে পান করুন।

ডায়াবেটিস, কিডনি বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নষ্ট বা দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা মাড় পান করবেন না।

ভাতের মাড় বা ফ্যান দীর্ঘদিন ধরেই পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে কিছু ভিটামিন, খনিজ ও শ্বেতসার থাকলেও এটি সবার জন্য সমান উপকারী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিস রোগী, কিডনি সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি-সহ কয়েকটি বিশেষ গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভাতের মাড় খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি।

Leave a comment