Rinku Singh Love Story: প্রেমের পথে এসেছিল পরিবার ও বিয়ের প্রস্তাব! কীভাবে টিকে গেল রিঙ্কু-প্রিয়ার সম্পর্ক?

Rinku Singh Love Story: রিঙ্কু সিং ও প্রিয়া সরোজের প্রেম কীভাবে শুরু হয়েছিল? পরিবারের আপত্তি, বিয়ের প্রস্তাব ও সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন পেরিয়ে কীভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত, জানুন পুরো কাহিনি।

ক্রিকেট মাঠে ছক্কা হাঁকিয়ে পরিচিতি পাওয়া রিঙ্কু সিংয়ের ব্যক্তিগত জীবনও এখন চর্চার কেন্দ্রে। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ প্রিয়া সরোজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ৮ জুন লখনউয়ে তাঁদের বাগদান হয়েছিল। এবার ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ লখনউয়ের রামাডা হোটেলে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।তবে রিঙ্কুর নিজের কথাতেই জানা যায়, এই সম্পর্কের পথটা সবসময় সহজ ছিল না। একসময় পরিবারকে রাজি করানো নিয়েও যথেষ্ট দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল।

ফ্যান পেজ থেকেই শুরু আলাপ

রিঙ্কুর বর্ণনা অনুযায়ী, একটি ফ্যান পেজের মাধ্যমে প্রথম প্রিয়ার ছবি তাঁর নজরে আসে। এরপর কথাবার্তা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই যোগাযোগই সম্পর্কের রূপ নেয়।২০২৫ সালে বাগদানের পর এক সাক্ষাৎকারে রিঙ্কু তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিকের নানা কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। পরে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রিয়া শুরুতেই সম্পর্ক নিয়ে নিজের কিছু প্রত্যাশার কথা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।

প্রিয়ার শর্ত ছিল বিয়ের প্রতিশ্রুতি

রিঙ্কুর কথায়, প্রিয়া চাইতেন সম্পর্কটি যদি এগোয়, তাহলে তার পরিণতি বিয়েতেই হওয়া উচিত। পাশাপাশি দু’জনের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।দু’জনের ব্যস্ত জীবন এবং কম দেখা হওয়ার সম্ভাবনাও সম্পর্কের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। অর্থাৎ, শুধুমাত্র প্রেম নয়, ভবিষ্যৎ নিয়েও দু’জনের মধ্যে স্পষ্ট বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল।

প্রথম সাক্ষাতেও ছিল পরিবারের নজর

প্রিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সময় পরিস্থিতি খুব স্বাভাবিক ছিল না বলে রিঙ্কু জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তখনও রিঙ্কু ছিলেন মূলত একজন অপরিচিত ব্যক্তি।প্রিয়া প্রথম সাক্ষাতে বান্ধবী ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বলে রিঙ্কু জানান। অন্যদিকে রিঙ্কুও তাঁর পরিবারের সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সাধারণ পোশাকেই সেই সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচয় আরও স্বাভাবিক হয়।

অন্য বিয়ের প্রস্তাবেও তৈরি হয়েছিল চাপ

রিঙ্কুর বর্ণনায়, সেই সময় প্রিয়ার পরিবারের কাছে একাধিক বিয়ের প্রস্তাব আসছিল। ফলে তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।তিনি জানিয়েছেন, এক পর্যায়ে তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো সম্পর্কটি ভেঙেও যেতে পারে। তখন পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে—তিনি কি সত্যিই বিয়ের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত?রিঙ্কুর উত্তর ছিল ইতিবাচক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি শুরু থেকেই সম্পর্কটিকে বিয়ের উদ্দেশ্যেই দেখেছিলেন।

প্রিয়ার দিদি ও জামাইবাবুর ভূমিকা

রিঙ্কুর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রিয়ার পরিবারের কয়েকজন সদস্য শুরুতে সম্পর্কটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর দিদি ও জামাইবাবুরও নানা প্রশ্ন ছিল।রিঙ্কুকে তাঁদের সঙ্গে দেখা করে নিজের কাজ, আয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি হয় এবং তাঁরা সম্পর্কটি মেনে নেন বলে রিঙ্কু জানিয়েছেন।

প্রিয়ার বাবার সঙ্গেও হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ

এরপর আসে প্রিয়ার বাবার সঙ্গে রিঙ্কুর সাক্ষাতের পর্ব। রিঙ্কুর কথায়, প্রথমে তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে প্রিয়ার বাবা এই সম্পর্ককে কীভাবে দেখবেন।পরিবারের স্বাভাবিক চিন্তাই ছিল—মেয়ের ভবিষ্যৎ কেমন হবে, যে ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হচ্ছে তিনি কেমন মানুষ এবং ভবিষ্যতে তিনি মেয়ের দায়িত্ব কতটা নিতে পারবেন। রিঙ্কুর সঙ্গে দেখা করার পর ধীরে ধীরে সেই উদ্বেগও কমে আসে বলে তাঁর বক্তব্য।

ক্রিকেটের আয় নিয়েও ছিল কৌতূহল

রিঙ্কুর বক্তব্যে উঠে এসেছে, প্রিয়ার পরিবারের কাছে তাঁর ক্রিকেটজীবন সম্পর্কে সব তথ্য শুরুতে খুব পরিচিত ছিল না। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের চুক্তি ও ‘রিটেনশন’-এর মতো বিষয় নিয়েও তাঁদের প্রশ্ন ছিল।পরবর্তীতে রিঙ্কুর ক্রিকেট কেরিয়ার ও আয় সম্পর্কে তাঁরা জানতে পারেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের মূল চিন্তা ছিল মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকবে কি না।

২০২৫-এ বাগদান, এবার বিয়ের পালা

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত বাগদানে পৌঁছয়। ২০২৫ সালের ৮ জুন লখনউয়ের দ্য সেন্ট্রাম হোটেলে রিঙ্কু সিং ও প্রিয়া সরোজের বাগদান হয়। সেই অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সম্মতির কথাও প্রকাশ্যে এসেছিল।এরপর বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে একাধিকবার পরিবর্তনের খবর সামনে আসে। এখন ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ লখনউয়ের রামাডা হোটেলে বিয়ের আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।

ভারতীয় ক্রিকেটার রিঙ্কু সিং ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদ প্রিয়া সরোজের প্রেমকাহিনি এখন বিয়ের দিকে এগিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে তাঁদের বাগদান হয়। এবার ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ লখনউয়ে বিয়ের দিন চূড়ান্ত হয়েছে বলে খবর। কিন্তু এই সম্পর্কের শুরুটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। পরিবারের আপত্তি, প্রিয়ার কাছে আসা অন্য বিয়ের প্রস্তাব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যেও কীভাবে সম্পর্কটি এগিয়ে গেল, সেই গল্পই সামনে এসেছে।

Leave a comment