উত্তরাখণ্ডের রুড়কিতে সেই হাইওয়েতে আবারও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কয়েক বছর আগে ভারতীয় ক্রিকেটার ঋষভ পন্তের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। শুক্রবার সকালে গুরুকুল নারসন শহরের কাছে হাইওয়েতে গর্ত এড়াতে গিয়ে একটি সুইফট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সার্ভিস রোডের ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। গাড়িতে থাকা চারজন আহত হন। একই সময়ে নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ির ধাক্কায় এক বাইক আরোহীও গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনাটি গুরুকুল নারসন এলাকায় ঘটে। ঘটনাস্থল ঋষভ পন্তের দুর্ঘটনার স্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের মানুষ আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১০৮ অ্যাম্বুল্যান্সের সাহায্যে সব আহতকে হাসপাতালে পাঠায়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সুইফট গাড়িতে চারজন ছিলেন। তাদের সবাই রুড়কির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তারা খাটু শ্যাম দর্শন করে বাড়ি ফিরছিলেন। শুক্রবার সকালে গাড়িটি গুরুকুল নারসন হাইওয়েতে পৌঁছালে রাস্তার গর্ত এড়াতে চালক গাড়িটিকে অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং সেটি সার্ভিস রোডের ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চার যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনা শুধু গাড়ির যাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর সময় রাস্তার পাশে থাকা এক বাইক আরোহীকেও ধাক্কা মারে। আহত বাইক আরোহী কুয়াঁহেড়ি এলাকার বাসিন্দা অঙ্কিত ত্যাগী বলে জানা গেছে। তিনি সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিতে বাসস্টপে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
গাড়ির ধাক্কায় অঙ্কিত ত্যাগী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষ তাকে সামলান এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর গাড়ির চার যাত্রী এবং বাইক আরোহী—সব আহতকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি হেফাজতে নিয়ে চৌকিতে রাখে। ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গর্ত এড়ানোর চেষ্টার সময় গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হওয়াকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে।
তবে দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তে রাস্তার অবস্থা ছাড়াও গাড়ির গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনার সময় আশপাশের পরিস্থিতি দেখা হতে পারে। আপাতত দুর্ঘটনা নিয়ে পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত-নিষ্কর্ষ সামনে আসেনি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নারসন বর্ডার থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত হাইওয়ের অবস্থার বিষয়ে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, রাস্তার বিভিন্ন অংশে গভীর গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি এবং নিয়মিত যান চলাচলের কারণে গর্তগুলির অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য, গাড়িচালকরা প্রায়ই গর্ত এড়াতে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করেন। এর ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন বা আশপাশে থাকা মানুষের জন্য বিপদ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা হাইওয়ে মেরামত এবং গর্তগুলি দ্রুত ভরাট করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, রাস্তার খারাপ অবস্থা শুধু যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি করছে না, দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে সার্ভিস রোড, ডিভাইডার, বাসস্টপ এবং প্রধান হাইওয়ে কাছাকাছি রয়েছে, সেখানে গর্ত এড়াতে গিয়ে গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। শুক্রবারের ঘটনায়ও গাড়িটি ডিভাইডারে ধাক্কা মারার পর এক বাইক আরোহী আহত হন।
গুরুকুল নারসন এবং আশপাশের এই পথটি ডিসেম্বর ২০২২ সালে ক্রিকেটার ঋষভ পন্তের গাড়ির দুর্ঘটনার কারণে আলোচনায় এসেছিল। সেই সময় পন্ত দিল্লি থেকে রুড়কির দিকে যাচ্ছিলেন। নারসনের কাছে তার গাড়ি ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়।
পরে উত্তরাখণ্ডের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছিলেন, পন্ত তাকে বলেছিলেন যে গর্ত এড়ানোর চেষ্টা করার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
ঋষভ পন্তের দুর্ঘটনার পরও এই পথের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন একই রুটের কাছে আরও একটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন আহত হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তার মান ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। তবে দুই ঘটনার পরিস্থিতি আলাদা এবং বর্তমান দুর্ঘটনাকে সরাসরি ২০২২ সালের দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। বর্তমান ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গর্ত এড়ানোর সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল সক্রিয় হয়। ১০৮ অ্যাম্বুল্যান্সের সাহায্যে আহতদের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে গাড়িতে থাকা চারজন এবং বাইক আরোহী রয়েছেন। প্রতিবেদনে বাইক আরোহী গুরুতর আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা এবং তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরবর্তী তথ্য হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্ট ও চিকিৎসকদের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি হেফাজতে নিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তথ্য সংগ্রহ করছে। ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি রাস্তার অবস্থা এবং গাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে রাস্তার গর্তই সামনে এলে সংশ্লিষ্ট রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এবং মেরামতের পরিস্থিতিও প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা হাইওয়ের খারাপ অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামত এবং গভীর গর্ত ভরাট করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, রাস্তার পরিস্থিতির উন্নতি হলে যানচালকদের বারবার হঠাৎ দিক পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমতে পারে। বর্তমানে পাঁচ আহতের চিকিৎসা চলছে এবং পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত করছে।










