Birbhum News: শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লির মাঠেই ফিরছে পৌষমেলা! বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসনের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত

শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লির মাঠেই পৌষমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত বিশ্বভারতী ও বীরভূম জেলা প্রশাসনের বৈঠকে। মেলা পরিচালনায় সহযোগিতার আশ্বাস, নভেম্বরের বৈঠকে হবে বিস্তারিত আলোচনা।

বাঙালির শীতকাল মানেই শান্তিনিকেতনের পৌষমেলার নস্টালজিয়া। বাউল গান, হস্তশিল্প, লোকসংস্কৃতি আর গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে প্রতি বছর এই মেলাকে ঘিরে উৎসাহ থাকে তুঙ্গে। এবারও সেই চেনা আবহে পূর্বপল্লির মাঠে পৌষমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর মিলেছে এই খবর। মেলা পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। ফলে মেলার প্রস্তুতি নিয়ে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা।

পূর্বপল্লির মাঠেই পৌষমেলা, ঐতিহ্য বজায় রাখার সিদ্ধান্ত

বীরভূমের শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পূর্বপল্লির মেলার মাঠেই এ বছর পৌষমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকে মেলার আয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর পুরনো ঐতিহ্য বজায় রেখে মেলা আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কে সবরকম সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এই আশ্বাসে মেলার প্রস্তুতি আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

করোনা পর্বে বদলেছিল পৌষমেলার ঠিকানা

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা অতিমারি এবং পরিকাঠামোগত নানা কারণ দেখিয়ে ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় পৌষমেলার আয়োজন থেকে বিরত ছিল। সেই সময় বোলপুরের ডাকবাংলো ও স্টেডিয়াম মাঠে বিকল্পভাবে পৌষমেলার আয়োজন করা হয়।এরপর ২০২৩ সালে মেলা আবার পূর্বপল্লির মাঠে ফিরে আসে। যদিও সে বছর বিশ্বভারতী সরাসরি মেলার আয়োজন করেনি, নির্দিষ্ট শর্ত মেনে জেলা প্রশাসনকে মেলা করার অনুমতি দিয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও পূর্বপল্লির মাঠে পৌষমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও সেই ঐতিহ্য বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন?

বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেশ এবং বোলপুরের মহকুমাশাসক ব্রততী দত্ত-সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ের পাশাপাশি পৌষমেলা সফলভাবে আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মেলার ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মেলা আয়োজনে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস প্রশাসনের

বৈঠক শেষে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক ভাস্কর দাস জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়ের পাশাপাশি পৌষমেলার সফল আয়োজন নিয়েও কথা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য দফতর বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বাত্মক সাহায্য করবে।মেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে বিভিন্ন দফতরের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসনের এই সহযোগিতার আশ্বাসকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নভেম্বরের বৈঠকে চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা

প্রাথমিক বৈঠকে পৌষমেলা পূর্বপল্লির মাঠে আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও, মেলার বিস্তারিত রূপরেখা নিয়ে আরও আলোচনা বাকি রয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে পরবর্তী বৈঠকে মেলার পরিকল্পনা ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।মেলার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানতে পরবর্তী ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। তাই মেলায় যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে বিশ্বভারতী বা জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা উচিত।

শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পূর্বপল্লির মেলার মাঠেই এ বছর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পৌষমেলা। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও বীরভূম জেলা প্রশাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেলা সফলভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয়কে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক ভাস্কর দাস জানিয়েছেন, পৌষমেলার আয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী নভেম্বরের বৈঠকে মেলার বিস্তারিত রূপরেখা নিয়ে আরও কথা হবে।

Leave a comment