শান্তিনিকেতন মানেই রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি, লালমাটির পথ আর বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য। সারা বছরই এই শহরে পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। এবার সেই ভ্রমণ আরও পরিকল্পিতভাবে করার সুযোগ মিলতে চলেছে। ‘হেরিটেজ ওয়াক’-এর জন্য আগাম ই-টিকিট বুক করতে পারবেন পর্যটকেরা। ফলে শান্তিনিকেতন যাওয়ার আগে থেকেই ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি নিশ্চিত করে রাখা যাবে।
আগাম বুক করা যাবে হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট
দুর্গাপুজোর পর থেকে পর্যটকদের জন্য হেরিটেজ ওয়াকের ই-টিকিট আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। ভ্রমণের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে টিকিট বুক করার সুযোগ থাকবে।এই ব্যবস্থায় পর্যটকেরা বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী পরিসর ঘুরে দেখার পরিকল্পনা আগে থেকেই সাজিয়ে নিতে পারবেন। শুধু হেরিটেজ ওয়াক নয়, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত পাঁচটি বাড়ি দেখার ক্ষেত্রেও ই-টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কী কী দেখতে পারবেন?
হেরিটেজ ওয়াকের মাধ্যমে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ মিলবে। এর মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা এবং কবিগুরুর ব্যবহৃত পাঁচটি ঐতিহাসিক বাড়ি।
এই পাঁচটি বাড়ি হল—
উদয়ন
উদীচী
কোনার্ক
শ্যামলী
পুনশ্চ
অর্থাৎ শান্তিনিকেতন ভ্রমণের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের জীবন ও স্মৃতিবিজড়িত একাধিক স্থানের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও থাকবে।
বৃহস্পতিবার বাদে প্রায় প্রতিদিন হেরিটেজ ওয়াক
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাদ দিয়ে প্রতিদিন পর্যটকদের হেরিটেজ ওয়াক করানো হচ্ছে। ফলে সপ্তাহের অন্য দিনগুলিতে শান্তিনিকেতন যাওয়ার পরিকল্পনা করলে এই বিশেষ অভিজ্ঞতাটি ভ্রমণসূচিতে রাখা যেতে পারে।এছাড়াও পাঁচটি বাড়ি দেখার জন্য কম্বো টিকিট বুক করার সুবিধাও থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
কত টাকা টিকিট?
হেরিটেজ ওয়াকের টিকিটের ক্ষেত্রে পর্যটকদের জন্য আলাদা আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ পর্যটক: মাথাপিছু ৩০০ টাকা।
পড়ুয়াদের দল: কোনও পড়ুয়ার দল এলে মাথাপিছু ৫০ টাকা।
একজন পড়ুয়া: একা কোনও ছাত্রছাত্রী গেলে টিকিটের দাম ১৫০ টাকা।
বিদেশি পর্যটক: মাথাপিছু ১০০০ টাকা।
একটি দলে সর্বাধিক ২৫ জন পর্যটক অংশ নিতে পারবেন।
আপাতত কোথা থেকে টিকিট মিলছে?
আগাম ই-টিকিটের ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি বর্তমানে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালার কাউন্টার থেকেও হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে।তাই যাঁরা এখনই শান্তিনিকেতন ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা কাউন্টার থেকেও টিকিটের বিষয়ে খোঁজ নিতে পারেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই হেরিটেজ ওয়াক?
শান্তিনিকেতনের বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পর্যটন ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেসকো শান্তিনিকেতনকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সেই মর্যাদা বজায় রাখতে পর্যটকদের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি দেখার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন।এই ভাবনা থেকেই ২০২৫ সালের অগাস্টে প্রথমবার পর্যটকদের জন্য বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের দরজা খুলে হেরিটেজ ওয়াক শুরু করা হয়েছিল।
এবার থাকছে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ও
হেরিটেজ ওয়াকের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। ফলে শান্তিনিকেতন ভ্রমণে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান দেখার পাশাপাশি আরও একটি নতুন অভিজ্ঞতা যুক্ত হতে চলেছে।বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ সাংবাদিক সম্মেলনে এই উদ্যোগের কথা জানান।
ভ্রমণের আগে কী মাথায় রাখবেন?
শান্তিনিকেতন যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে হেরিটেজ ওয়াকের জন্য আগে থেকেই দিন ঠিক করে নেওয়া ভালো। যেহেতু আগাম বুকিংয়ের সুযোগ থাকবে এবং একটি দলে সর্বাধিক ২৫ জন প্রবেশ করতে পারবেন, তাই পর্যটকদের আগে থেকে পরিকল্পনা করে টিকিট বুক করার সুবিধা রয়েছে।বিশেষ করে পুজোর পর পর্যটকের চাপ বাড়তে পারে। তাই পছন্দের দিনে হেরিটেজ ওয়াক করতে চাইলে আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থা কাজে লাগাতে পারেন।
শান্তিনিকেতন ভ্রমণকারীদের জন্য বড় সুখবর। এবার বিশ্বভারতীর হেরিটেজ ওয়াকে অংশ নেওয়ার জন্য আগেভাগেই ই-টিকিট বুক করার সুযোগ মিলবে। দুর্গাপুজোর পর থেকে অন্তত ১৫ দিন আগে টিকিট বুক করা যাবে। বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস, রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত পাঁচটি ঐতিহ্যবাহী বাড়ি ঘুরে দেখার সুযোগ থাকবে। মাথাপিছু টিকিটের দাম, পড়ুয়াদের ছাড় এবং গ্রুপের নিয়মও জানুন।













