Sattvik Food: শহুরে ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন ভারতীয় খাবারের ঐতিহ্য। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের ললিতপুরে এখনও এমন একটি ভোজনালয় রয়েছে, যেখানে খাওয়াদাওয়ার অভিজ্ঞতা যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায় বহু বছর আগের সময়ে। এখানে মাটির উনুনে রান্না হয় খাবার, ব্যবহার করা হয় মাটির পাত্র ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণ। এমনকী খাবার খাওয়ার আগে খুলে রাখতে হয় জুতো-চটি। মাত্র ২০০ টাকায় পাওয়া যায় সুস্বাদু বুন্দেলখণ্ডি থালি।
কোথায় রয়েছে এই অভিনব ভোজনালয়?
উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর জেলার তালবেটে, ঝাঁসি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে NH-44-এর ধারে অবস্থিত গৌকৃপা বুন্দেলি ভোজনালয়। ২০২২ সালের মার্চে সনাতন সংস্কৃতি ও প্রাচীন খাদ্যপরম্পরাকে সামনে রেখে এই ভোজনালয় চালু করেন মহেন্দ্র পাল সিং যাদব।এখানে শুধু খাবার পরিবেশন নয়, রান্না থেকে শুরু করে খাওয়ার পদ্ধতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঐতিহ্যবাহী রীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জুতো খুলে, হাত-পা ধুয়ে তবেই প্রবেশ
এই ভোজনালয়ে ঢোকার আগে অতিথিদের জুতো ও চটি খুলে রাখতে হয়। এরপর হাত-পা ধুয়ে মাটির আসনে বসে খাবার খেতে হয়। মাটির সঙ্গে গোবর মিশিয়ে লেপা মেঝেতে পা গুটিয়ে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।খাবার রান্না করা হয় মাটির উনুনে। রান্নায় ব্যবহার করা হয় দেশি ঘি এবং বিলোনা পদ্ধতিতে তৈরি ছাঁচ। খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। পাতার থালা, মাটির পাত্র, তামা ও পিতলের বাসন ব্যবহার করা হয়। ভোজনালয়ে রান্না বা পরিবেশনের কাজে লোহা ও স্টিলের ব্যবহার এড়িয়ে চলা হয়।
কী কী থাকছে ২০০ টাকার থালিতে?
এই ভোজনালয়ের অন্যতম আকর্ষণ হল ২০০ টাকার বুন্দেলখণ্ডি থালি। সাধারণ খাবারের বদলে এখানে একসঙ্গে পাওয়া যায় একাধিক দেশীয় পদ।
থালিতে থাকতে পারে—
ভুট্টার রুটি
বাজরার রুটি
গমের রুটি বা কাগড়িয়া
ডাল-ভাত
বেগুন ভর্তা
শিল-নোড়ায় তৈরি চাটনি
কড়ি
বাটি
চুরমার লাড্ডু
ছাছ
বিশেষ ‘বড়া-বুরা’
উড়দ ডাল দিয়ে তৈরি ‘বড়া-বুরা’ এই থালির অন্যতম আকর্ষণীয় পদ। চিনি দিয়ে খাওয়া এই খাবারে পাওয়া যায় টক-মিষ্টি স্বাদের এক অভিনব মিশেল।
শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, মিলবে পুরনো দিনের স্মৃতিও
এই ভোজনালয়কে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে এখানে সাজানো পুরনো দিনের বিভিন্ন সামগ্রীর সংগ্রহ। পুরনো টেলিফোন, লণ্ঠন, ঐতিহ্যবাহী গয়না, পালকি এবং দোলনার মতো জিনিস রয়েছে এখানে।
৫০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে
দূর থেকে আসা পর্যটকদের জন্য ভোজনালয়ে কটেজের ব্যবস্থাও রয়েছে। সেখানে থাকতে খরচ পড়ে প্রায় ৫০০ টাকা। ফলে কম বাজেটে প্রাচীন ভারতীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে রাত কাটানোর সুযোগও মিলতে পারে।
সময়ের সঙ্গে বদলে গেলেও হারিয়ে যায়নি ভারতের প্রাচীন খাদ্যঐতিহ্য। উত্তরপ্রদেশের ললিতপুরের এক অভিনব ভোজনালয়ে এখনও মিলছে সেই পুরনো দিনের সাত্ত্বিক খাবারের স্বাদ। মাটির উনুনে রান্না করা দেশীয় পদ খেতে হলে আগে খুলে রাখতে হয় জুতো-চটি, হাত-পা ধুয়ে মাটির আসনে বসেই সারতে হয় ভোজন। মাত্র ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে সুস্বাদু বুন্দেলখণ্ডি থালি। শুধু তাই নয়, রাত কাটানোর জন্য রয়েছে মাত্র ৫০০ টাকার কটেজের ব্যবস্থাও।












