আবহাওয়া আপডেট: দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মঙ্গলবার সকালে দুটি শক্তিশালী নিম্নচাপের মধ্যে পারস্পরিক প্রভাবের কারণে ফুজিওয়ারা প্রভাব সক্রিয় হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মডেলের মতে, এই প্রভাবের কারণে ঘূর্ণিঝড় ‘সেনইয়ার’ সম্ভবত ইন্দোনেশিয়ার দিকে মুখ ঘুরিয়েছে। এই ঘটনা ঘটে যখন সমুদ্রের ১৪০০ কিমি ব্যাসার্ধে দুটি তীব্র আবহাওয়ার সিস্টেম একে অপরের চারপাশে ঘুরতে থাকে, যার ফলে তাদের পথ এবং তীব্রতা পরিবর্তিত হয়।

ফুজিওয়ারা প্রভাবে ঘূর্ণিঝড়ের পথ পরিবর্তন
দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপের মধ্যে একে অপরকে প্রভাবিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই সিস্টেমের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১৪০০ কিমি কম হলে বিরল এই প্রভাব সক্রিয় হয়।ফুজিওয়ারা প্রভাবে ঘূর্ণিঝড় ‘সেনইয়ার’ ভারতের মূল ভূমি—বিশেষ করে তামিলনাডু থেকে ওডিশার দিকে—যাবার পরিবর্তে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ইন্দোনেশিয়ার দিকে ঘুরেছে।
আন্তর্জাতিক মডেলগুলিতে মতভেদ, পরে স্পষ্টতা
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য পথ নিয়ে মার্কিন GFS, ইউরোপীয় ECMWF এবং UKMET মডেলগুলিতে প্রাথমিকভাবে ভিন্নতা দেখা দেয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিন্নতা ফুজিওয়ারা প্রভাবের উপস্থিতির নির্দেশ ছিল, যা পরে বিশদ তুলনার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়।এরপর সব মডেল প্রায় একই দিক নির্দেশ করে—যে ‘সেনইয়ার’ ভারতের উপকূলে পৌঁছাবে না এবং ইন্দোনেশিয়ার দিকে বাড়বে।

শ্রীলঙ্কার কাছে নতুন নিম্নচাপ পরিস্থিতি জটিল করল
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিমে মঙ্গলবার নতুন নিম্নচাপ তৈরি হয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।IMD জানায়, এই সিস্টেম বুধবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে তামিলনাডুর উপকূলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।তবে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এর উপস্থিতি ‘সেনইয়ার’-এর পথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলার এবং পূর্ব ভারতের জন্য এখন কোনো ঝুঁকি নেই
আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।‘সেনইয়ার’-এর পথ পুরোপুরি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ঘুরেছে, তাই ভারতের পূর্ব উপকূলে সরাসরি প্রভাব পড়বে না।যাইহোক, সমুদ্রের অস্থিরতার কারণে কিছু অঞ্চলে ঢেউয়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিরল আবহাওয়াগত ঘটনা
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ‘হিলারি’ ও ‘আরউইন’ নামের দুটি ঘূর্ণিঝড়ও একইভাবে ফুজিওয়ারা প্রভাবে একে অপরের পথ পরিবর্তন করেছিল।উত্তর গোলার্ধে এই প্রভাবের কারণে সিস্টেমগুলো ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরতে থাকে—যা এবারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।যদিও সিনেমার মতো “দুই ঘূর্ণিঝড় মিলে সুপার সাইক্লোন তৈরি করা” বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা নেই।









