মঙ্গলবার সেনসেক্স প্রায় ৪০০ পয়েন্ট পড়ল নিফটি ২৩৭০০-এর নিচে

মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ বাড়ায় সেনসেক্স প্রায় ৪০০ পয়েন্ট পড়ে যায় এবং নিফটি ২৩,৭০০-এর নিচে নেমে যায়। অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম, ফেডের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আইপিও বাজারের গতির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত স্তরগুলি বাজারে নজরে রয়েছে।

মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরু থেকেই চাপ দেখা যায়। সেনসেক্স প্রায় ৪০০ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়ে যায়, আর নিফটি ২৩,৭০০-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচে নেমে যায়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রের বিভিন্ন কারণ বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আইপিও বাজারে অব্যাহত গতি উল্লেখযোগ্য।

প্রধান বেঞ্চমার্ক সূচকগুলি লেনদেনের শুরুতে প্রায় স্থিতিশীল ছিল। তবে সেশন এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বড় শেয়ারগুলিতে বিক্রির চাপ বাড়ে। ব্যাংকিং ও অন্যান্য বড় শেয়ারে চাপ বৃদ্ধির ফলে বাজারের প্রাথমিক স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবারের লেনদেনে সেনসেক্সে প্রায় ৪০০ পয়েন্টের পতন হয়। অন্যদিকে, নিফটি ২৩,৭০০-এর স্তরের নিচে নেমে যায়। বাজারে সতর্কতা বাড়ায় একাধিক বড় শেয়ারে বিক্রি দেখা যায়। অদানি এন্টারপ্রাইজেস এবং অ্যাক্সিস ব্যাংকে তুলনামূলক বেশি দুর্বলতা দেখা গেছে। বড় ও প্রভাবশালী শেয়ারের পতনের সরাসরি প্রভাব পড়ে প্রধান সূচকগুলিতে।

মঙ্গলবার সেনসেক্স প্রায় ৪০০ পয়েন্ট পড়ল নিফটি ২৩৭০০-এর নিচে

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সূচকগুলিতে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি দেশীয় বাজারের উচ্চ মূল্যায়ন নিয়েও সতর্কতা বেড়েছে।

বাজারে পতনের অন্যতম কারণ অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম। ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের ক্ষেত্রে তেলের দামের বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে আমদানি বিল বাড়তে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চ স্তরে থাকলে কোম্পানিগুলির খরচ এবং অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণে বিনিয়োগকারীরা তেলের বাজারের ওঠানামার দিকে নজর রাখছেন।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও ভারতীয় বাজারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। সুদের হার উচ্চ স্তরে থাকা বা সম্ভাব্য হার বৃদ্ধির আশঙ্কা বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। মার্কিন বন্ড ইয়েল্ড এবং ডলারের পরিবর্তন উদীয়মান বাজারগুলিতে প্রভাব ফেলে। ভারতও এর বাইরে নয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কৌশলে পরিবর্তন হলে ভারতীয় ইক্যুইটি বাজারে বিক্রির চাপ বাড়তে পারে।

ভারতের প্রাথমিক বাজারে ধারাবাহিকভাবে নতুন আইপিও আসা এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিও শেয়ারবাজারের তারল্যে প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল পরিমাণ মূলধন আইপিও এবং নতুন ইস্যুতে গেলে দ্বিতীয় বাজারে অর্থাৎ বিদ্যমান শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য উপলব্ধ অর্থের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সূচকের কারণে বাজার যখন আগে থেকেই চাপে থাকে, তখন এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের মতে, নিকট মেয়াদে নিফটির প্রবণতা বর্তমানে দুর্বল রয়েছে। ২৪,০২৫ স্তরটি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। নিফটি এই স্তরের নিচে থাকলে আরও দুর্বলতা দেখা যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ২৩,৬০০ থেকে ২৩,৫০০-এর অঞ্চল পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট জোন হতে পারে। এই অঞ্চলটি আগের বড় গ্যাপ এবং জুলাই ২০২৬-এর নিম্নস্তরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে আগামী সেশনগুলিতে বিনিয়োগকারীদের নজর এই প্রযুক্তিগত স্তরগুলির দিকে থাকবে।

 

Leave a comment