ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ অবস্থান শিথিলকরণ এবং ন্যাটোর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক ডিল ফ্রেমওয়ার্ক ঘোষণার ইঙ্গিতের পর বৈশ্বিক বাজারে সেন্টিমেন্টে উন্নতি দেখা যায়। এর প্রভাব বৃহস্পতিবার ভারতের শেয়ারবাজারে প্রতিফলিত হয়, যেখানে সেনসেক্স ও নিফটি উর্ধ্বমুখী সূচনার মাধ্যমে লেনদেন শুরু করে।
বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ক্রয়চাপ তৈরি হয়। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স 631.39 পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে 82,541.02 স্তরে পৌঁছায়। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি 157.20 পয়েন্ট বেড়ে 25,314.70 স্তরে লেনদেন করে। নিফটি 25,300 স্তরের উপরে অবস্থান ধরে রাখে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি সেশনে বাজারে চাপ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবারের সূচনালগ্নের গতি বাজারের স্বল্পমেয়াদি সেন্টিমেন্টে পরিবর্তন নির্দেশ করে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্ভাব্য ট্যারিফ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এই প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ন্যাটো দেশগুলোর ওপর প্রস্তাবিত ট্যারিফ বিষয়ে অবস্থান শিথিল করার ইঙ্গিত দেন এবং গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত ন্যাটোর সঙ্গে একটি ডিল ফ্রেমওয়ার্কের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণাগুলোর পর বৈশ্বিক বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এশীয় বাজারগুলোতেও বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বমুখী লেনদেন লক্ষ্য করা যায়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রধান এশীয় সূচকগুলোর গতি ভারতীয় বাজারের সেন্টিমেন্টে প্রভাব ফেলে। আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে র্যালি দেখা যায়, যেখানে এসঅ্যান্ডপি 500 সূচক গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ একদিনের শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করে।
সেক্টরভিত্তিকভাবে ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ফার্মা শেয়ারে লেনদেন সক্রিয় ছিল। ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ও সরকারি ব্যাংকের শেয়ারগুলোর নড়াচড়া বাজারকে সহায়তা করে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক বাজারসংক্রান্ত ইঙ্গিতের প্রতিফলন দেখা যায়। ফার্মা খাতে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে লেনদেন হয়।
কয়েকটি নির্দিষ্ট শেয়ারেও নজর ছিল। ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন (ইন্ডিগো), ড. রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজ, বায়োকন ও এইচপিসিএল শেয়ারে কার্যক্রম দেখা যায়। সিইএসসি ও ইটারনাল শেয়ারেও কোম্পানি-সংক্রান্ত খবর ও ফলাফলের প্রত্যাশার মধ্যে লেনদেন হয়।
কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে নিফটির 25,300 স্তরের উপরে অবস্থান একটি উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।











