রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২২ জানুয়ারি রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করছে রাজস্থান সরকার। এই উপলক্ষে সরকার কৃষক, মহিলা ও নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য মোট ১,৫৯০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। এই অর্থ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অধীনে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমানো এবং প্রয়োজনীয় শ্রেণিগুলিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করা। রাজ্য স্তরের প্রধান কর্মসূচিটি সিরোহিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে তিনি একাধিক প্রকল্পের উপভোক্তাদের ডিবিটির মাধ্যমে সহায়তার অর্থ হস্তান্তর করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি যোজনার অধীনে কৃষকদের জন্য পঞ্চম কিস্তির অর্থ এই দিনে জারি করা হবে। এই অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে জমা পড়বে এবং চাষাবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত খরচ মেটাতে সহায়তা করবে।
এছাড়াও ‘গ্লোবাল রাজস্থান এগ্রিটেক মিট’-এর আওতায় ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান গ্রাম উন্নয়ন শিবিরগুলির সূচনা করা হবে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, বীজ, সার এবং সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রসোই গ্যাস সাবসিডি যোজনার অধীনে মহিলাদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডারে প্রদেয় ভর্তুকির অর্থও জারি করবেন। এর ফলে রান্নার খরচ কমবে এবং উপভোক্তা মহিলারা আর্থিক স্বস্তি পাবেন।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দুগ্ধ উৎপাদক সম্বল যোজনার অধীনে দুধ উৎপাদকদের জন্য প্রণোদনা অর্থ প্রদান করবেন। সরকারের মতে, এর ফলে পশুপালকদের আয় বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও মজবুত হবে।
নির্মাণ শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও পারিবারিক প্রয়োজন পূরণের জন্য আর্থিক সহায়তা হিসেবে অনুদান প্রদান করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের কৃষি আদান-প্রদান অনুদান সহায়তাও দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের সময় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তাদের আবাস নির্মাণের জন্য চেক বিতরণ করা হবে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলির পাকা বাড়ির স্বপ্ন পূরণে সহায়তা মিলবে।
সরকার জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হল জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা সরাসরি যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং কোনও মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়ম এড়ানো। এই উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে কৃষক, মহিলা ও শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত সহায়তার অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে, যা স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করেছে এবং সময়মতো সহায়তা নিশ্চিত করছে।












