সেনসেক্স 357 পয়েন্ট বেড়ে 77,160-এ খুলল, নিফটি 24,100-এর উপরে

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ভারতীয় শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী সূচনা করেছে। BSE সেনসেক্স 357 পয়েন্ট বেড়ে 77,160-এর কাছাকাছি খুলেছে, আর NSE নিফটি 24,100-এর উপরে লেনদেন করেছে। বৈশ্বিক সংকেত, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা এবং এশীয় বাজারের মিশ্র প্রবণতা বাজারকে সমর্থন করেছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ভারতীয় শেয়ারবাজার ইতিবাচক সূচনা করেছে। সোমবার দেশীয় ইক্যুইটি বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যেখানে প্রধান সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি উভয়ই বৃদ্ধি নিয়ে লেনদেন শুরু করে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে উন্নতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এবং এশীয় বাজার থেকে পাওয়া মিশ্র হলেও ইতিবাচক সংকেত ভারতীয় বাজারকে সমর্থন করেছে।

বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE)-এর প্রধান সূচক সেনসেক্স প্রাথমিক লেনদেনে 77,000 পয়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ স্তর অতিক্রম করে 77,160-এর কাছাকাছি পৌঁছায়। একই সময়ে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)-এর নিফটি 50 সূচকও বৃদ্ধি নিয়ে 24,100 পয়েন্টের উপরে লেনদেন করতে দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সূচক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের নজর সুইজারল্যান্ডে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক আলোচনার দিকে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি লাভ করলে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা বাড়তে পারে।

সেনসেক্স 357 পয়েন্ট বেড়ে 77,160-এ খুলল, নিফটি 24,100-এর উপরে

এই কারণেই সপ্তাহের শুরুতে একাধিক বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বিনিয়োগকারীরা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, কারণ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে কোনও অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

সোমবার এশীয় শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জাপানের প্রধান নিক্কেই সূচক শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন করেছে, পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকও ইতিবাচক অঞ্চলে অবস্থান করেছে। অন্যদিকে, হংকংয়ের শেয়ারবাজারে চাপ দেখা যায় এবং প্রধান সূচকে পতন নথিভুক্ত হয়। বিনিয়োগকারীদের নজর ছিল আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সূচক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কার্যক্রমের ওপর।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এশীয় বাজারে এই মিশ্র প্রবণতা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, যদিও সামগ্রিকভাবে ঝুঁকি গ্রহণের মনোভাবে উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দীর্ঘ সপ্তাহান্তের ছুটির পর মার্কিন শেয়ারবাজার পুনরায় খুলতে চলেছে। এই সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য নীতিগত অবস্থানের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। প্রি-মার্কেট লেনদেনে মার্কিন সূচক ফিউচারসে সামান্য দুর্বলতা দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত করে যে বিনিয়োগকারীরা এখনও অর্থনৈতিক তথ্য ও ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে সতর্ক রয়েছেন। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মার্কিন বাজারের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন আর্থিক বাজারে পড়ে।

 

Leave a comment