আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন: প্রতিবাদে চাবুক মারলেন বিজেপি সভাপতি আন্নামালাই

আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজেপি সভাপতি আন্নামালাই অভিনব প্রতিবাদে অংশ নেন। তিনি চাবুক মেরে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান, যা ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি কে. আন্নামালাই আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় পুলিশ ও সরকারের উদাসীনতার প্রতিবাদে নিজেকে চাবুক মেরেছেন। এই ঘটনাটি একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসাবে সামনে এসেছে, যেখানে আন্নামালাই এই বিষয়ে তাঁর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিরুবনন্তপুরম: তামিলনাড়ুর আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং এআইএডিএমকে ২৬শে ডিসেম্বর প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, অভিযুক্ত দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (ডিএমকে)-এর একজন পদাধিকারী, যদিও ডিএমকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন: প্রতিবাদে চাবুক মারলেন বিজেপি সভাপতি আন্নামালাই

বিজেপি তামিলনাড়ুর সভাপতি কে. আন্নামালাই অভিযুক্তের ডিএমকে নেতাদের সাথে ছবি দেখিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্ত ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র শাখার একজন পদাধিকারী এবং সেই কারণেই সে অপরাধ করতে পেরেছে। আন্নামালাই আরও বলেন যে, পুলিশ এই ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, কারণ অভিযুক্তের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

আন্দোলনকে আরও কার্যকর করতে আন্নামালাই ঘোষণা করেন যে, তিনি ২৮শে ডিসেম্বর তাঁর বাড়ির বাইরে ছয়বার চাবুক মারবেন, যাতে রাজ্য সরকার ও পুলিশের উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায়। এর সাথে তিনি এও বলেন যে, যতক্ষণ না ডিএমকে সরকার ক্ষমতায় আছে, তিনি চপ্পল পরবেন না এবং খালি পায়ে থাকবেন।

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক আলোড়ন

আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন: প্রতিবাদে চাবুক মারলেন বিজেপি সভাপতি আন্নামালাই

তামিলনাড়ুর আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি কেবল আইন-শৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীর বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় এআইএডিএমকে-এর সিনিয়র নেতারা প্রতিবাদ করলে পুলিশ তাঁদের আটক করে। বিজেপির সিনিয়র নেতা এবং প্রাক্তন রাজ্যপাল তামিলিসাই সৌন্দররাজন পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে বলেন যে, রাজ্যে যৌন অপরাধ বাড়ছে এবং রাজ্য সরকার ও পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে।

সুন্দররাজন আরও বলেন যে, মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে এবং সরকারের এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এই বিষয়টি এখন শুধুমাত্র একটি আইনি বিষয় নয়, বরং রাজ্যের রাজনীতিতেও এটি বেশ সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিজেপি এটিকে ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, ডিএমকে এই অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে এবং বলেছে যে, বিরোধীরা এটিকে কেবল রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করছে।

Leave a comment