বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গেল ‘সাস্টেনেবল হারনেসিং অফ অ্যাডভান্সমেন্ট অফ নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (SHANTI) বিল ২০২৫’। সরকার বলছে, এই বিল ভারতের পরমাণু শক্তিকে আধুনিক ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে বিরোধীদের কড়া প্রশ্ন—চেরনোবিল, ভোপালের মতো বিপর্যয় থেকেও কি শিক্ষা নেয়নি কেন্দ্র?
কী লক্ষ্য নিয়ে আনা হয়েছে ‘শান্তি বিল’
সরকারের দাবি, এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হল বিদেশি বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতের পরমাণু শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বেসরকারি অংশগ্রহণ জরুরি।

সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমবে? উঠছে বড় প্রশ্ন
বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিল কার্যকর হলে পরমাণু ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নজরদারি শিথিল হবে। ১৯৬২ সালের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্ট এবং ২০১০ সালের নিউক্লিয়ার ড্যামেজ অ্যাক্ট বাতিল হলে, পরমাণু শক্তির উপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেসরকারি সংস্থার জন্য কী সুবিধা
নতুন বিলে ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও চুল্লি নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার অনুমতি দেওয়া হবে। এতদিন এই কাজ সীমাবদ্ধ ছিল NPCIL এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার যৌথ উদ্যোগে।

দুর্ঘটনা হলে দায় নেবে কে
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে দায়বদ্ধতা নিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, নতুন বিলে পারমাণবিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায় সীমিত রাখা হয়েছে শুধু প্ল্যান্ট অপারেটরের উপর। যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে কার্যত ছাড় দেওয়া হচ্ছে, যা বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে।
চেরনোবিল ও ভোপালের প্রসঙ্গ টানলেন বিরোধীরা
বিরোধী দলগুলি চেরনোবিল ও ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেছে। তাঁদের বক্তব্য, খারাপ যন্ত্রাংশ ও শিথিল নজরদারিই বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, বিলটি সংসদের স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো উচিত ছিল।
বিজেপির পুরনো অবস্থান বনাম বর্তমান সিদ্ধান্ত
২০১০ সালে ইউপিএ সরকারের আনা নিউক্লিয়ার দায়বদ্ধতা আইনের সময় বিজেপি কড়া বিরোধিতা করেছিল। তখন বিজেপির দাবি ছিল, সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের উপর আরও কঠোর দায় চাপানো দরকার। এখন সেই বিজেপিই উল্টো পথে হাঁটছে—এই অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল মোদি সরকারের প্রস্তাবিত SHANTI Bill 2025। এই বিলের মাধ্যমে ভারতের অসামরিক পারমাণবিক ক্ষেত্রে বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগের দরজা খুলছে। তবে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমলে নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার দায় ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।










