Shantiniketan Tourism: পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুরে অবস্থিত শান্তিনিকেতন, যা ১৯০১ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ নামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখান থেকেই ১৯২১ সালে শুরু হয় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক বিশ্বজনীন প্রতীক। প্রশ্ন জাগে—শান্তিনিকেতনে গেলে কী কী দেখা উচিত? কোথায় নামবেন বা কীভাবে যাবেন? এই প্রতিবেদনে রইল তারই বিস্তারিত তথ্য।

বিশ্বভারতীর সূচনা ও রবীন্দ্রনাথের ভাবনা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা পছন্দ করতেন না। তাই ১৯০১ সালের ডিসেম্বরে তিনি শান্তিনিকেতনে “ব্রহ্মচর্যাশ্রম” প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রছাত্রীদের মুক্ত ও ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান। পরে ১৯১৮ সালে বিশ্বভারতীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়, এবং ১৯২১ সালে আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীলের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
বিশ্বভারতীর গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও প্রাঙ্গণ
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দুটি প্রধান অংশ—শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন। দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে ছাতিমতলা, আম্রকুঞ্জ, শিল্প ভবন, রবীন্দ্রভবন, কলা ভবন, সংগীত ভবন, বিদ্যাভবন ও চিনা ভবন। বাংলাদেশ ভবনও দর্শনীয় হলেও, বর্তমানে সেটি সাধারণ পর্যটকদের জন্য বন্ধ।

উত্তরায়ণ কমপ্লেক্স: রবীন্দ্রস্মৃতির নিদর্শন
শান্তিনিকেতনের অন্যতম আকর্ষণ উত্তরায়ণ কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছে পাঁচটি ঐতিহাসিক ভবন—উদয়ন, কোণার্ক, শ্যামলী, পুনশ্চ এবং উদিচি। কবিগুরু বিভিন্ন সময়ে এই বাড়িগুলিতে থেকেছেন, আর শ্যামলী ভবনেই মহাত্মা গান্ধী অবস্থান করেছিলেন। প্রতিটি ঘরেই সংরক্ষিত রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী ও স্মৃতিচিহ্ন।
শান্তিনিকেতন ভ্রমণের পথ ও পরামর্শ
কলকাতা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বোলপুর শান্তিনিকেতন। শিয়ালদহ বা হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে সরাসরি বোলপুর বা প্রান্তিক স্টেশনে নামা যায়। সেখান থেকে টোটো বা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে নেওয়া যায় পুরো শান্তিনিকেতন এলাকা—যেখানে শিক্ষার সঙ্গে মিশে আছে কবিগুরুর অনন্ত স্পর্শ।

বোলপুর শান্তিনিকেতন শুধু রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিক্ষেত্রই নয়, এক ঐতিহ্যের ঠিকানা। ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আশ্রম থেকে জন্ম নিয়েছিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। পর্যটকদের কাছে এটি এখন সংস্কৃতি ও শিক্ষার এক অনন্য কেন্দ্র।













