বিরিয়ানির বাক্স খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ! নামজাদা দোকানের খাবারে আরশোলা, শান্তিপুরে তীব্র চাঞ্চল্য

Shantipur News: বিরিয়ানির প্যাকেটে আরশোলা পাওয়ার অভিযোগ। দোকানের লাইসেন্স ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন, তদন্তে পুলিশ।

যে বিরিয়ানির নাম শুনলেই জিভে জল আসে, সেই খাবারের প্যাকেট খুলতেই চোখ কপালে উঠল ক্রেতাদের। নদিয়ার শান্তিপুরের প্রাণকেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরির সামনে অবস্থিত এক নামজাদা বিরিয়ানির দোকান ঘিরে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। খাবারের মধ্যেই আরশোলা পড়ে থাকার অভিযোগে মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।

শিশুর জন্য কেনা বিরিয়ানিতে ‘অপ্রত্যাশিত অতিথি’

শান্তিপুর নতুনপাড়ার বাসিন্দা রুদ্রদেব সরকার জানান, বাড়ির ছোট বাচ্চার জন্য ওই দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনেছিলেন তিনি। খাবার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে নিজে কাজে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী ফোন করে জানান—বিরিয়ানির প্যাকেটের ভেতরে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে একটি আরশোলা। সেই ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলে বিষয়টি নিয়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন তিনি।

দোকানদারকে জানানো হলেও অভিযোগ অস্বীকার

রুদ্রবাবুর দাবি, সঙ্গে সঙ্গে দোকানদারকে ফোন করে অনুরোধ করা হয়, যাতে ওই ব্যাচের খাবার আর কাউকে বিক্রি না করা হয়। কিন্তু দোকানদার নিজের দোষ ঢাকতে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কোনও দায় নিতে চাননি তিনি—এমনই অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাস্থলে ভিড়, লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ দোকান

ঘটনার খবর ছড়াতেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমান অন্যান্য ক্রেতা ও সাধারণ পথচলতি মানুষজন। উত্তেজিত জনতা দোকানদারের কাছে ব্যবসায়িক লাইসেন্স দেখাতে বললে তিনি তা দেখাতে পারেননি বলেও অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

FSSAI ও ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বড় প্রশ্ন

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই দোকানের আদৌ FSSAI লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা নিয়েও গুরুতর সন্দেহ আছে। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সও বৈধ কি না, সেটাও প্রশ্নের মুখে। জনবহুল এলাকায় এমন খাবারের দোকানে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে গাফিলতি মারাত্মক ঝুঁকির বিষয় বলে মত সাধারণ মানুষের।

দোকান মালিকের বিতর্কিত মন্তব্যে ক্ষোভ

অন্যদিকে দোকানের মালিক এস কে সাকিব, যাঁর বাড়ি বিহারে, এই ঘটনাকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, অনেক দোকানই লাইসেন্স ছাড়াই চলে। খাদ্যে আরশোলা পড়ার বিষয়েও তিনি অবহিত নন বলে দাবি করেন। এই মন্তব্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

পুলিশে খবর, তদন্তের দাবি জোরালো

পরিস্থিতি হাতের বাইরে যেতে পারে আঁচ করে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

নদিয়ার শান্তিপুরে একটি পরিচিত বিরিয়ানির দোকান থেকে কেনা খাবারের প্যাকেটে আরশোলা পাওয়া ঘিরে তোলপাড়। অভিযোগ ঘিরে দোকানের লাইসেন্স, খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

Leave a comment