বাংলার তাঁতশিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র শান্তিপুর। সেই ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও শাড়ির বাজার ঘোষ হাট এবার অভিযোগ ও বিতর্কের কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত দিনে হাটের চালা অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন বহু ব্যবসায়ী।
ঐতিহ্যের হাটে অশান্তির আবহ
শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ি শুধু রাজ্য নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমান জনপ্রিয়। বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের হাটগুলি বাংলার ঐতিহ্য বহন করে আসছে। প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন শাড়ি কিনতে। কিন্তু সম্প্রতি ঘোষ হাটকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ সেই ঐতিহ্যের উপরই প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
‘নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত দিনে চালা বিক্রি’ অভিযোগ ব্যবসায়ীদের
বিক্ষোভকারী ব্যবসায়ীদের দাবি, অতীতে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দু’দিন হাট বসার কথা থাকলেও গত কয়েক বছরে নীরবে আরও দু’দিন ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে অন্য ব্যবসায়ীদের। অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পুরনো ব্যবসায়ীদের কাউকেই জানানো হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও উঠল
ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও কোনও ফল মেলেনি। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়নি। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ
শুধু চালা বরাদ্দ নয়, হাটের বিভিন্ন পরিষেবা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ফলে হাট পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আলোচনার আশ্বাস দিলেন হাট মালিক
বিক্ষোভের মধ্যেই পরিস্থিতি শান্ত করতে উদ্যোগী হন হাট মালিক বিভাস ঘোষ। তিনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন এবং আগামী বৈঠকে সমস্ত ব্যবসায়ীদের নিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আশ্বাস দেন। তাঁর দাবি, আইন মেনেই হাট পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশাসন ও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি
সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে মহকুমা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, শান্তিপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী হাটে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, নইলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বহু ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীর ভবিষ্যৎ।
নদিয়ার শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী ঘোষ হাটে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। হাটের নির্দিষ্ট নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত দিনে গোপনে ব্যবসার জায়গা বরাদ্দ করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হলেন একাংশ শাড়ি ব্যবসায়ী। বিষয়টির সুরাহা না হলে প্রশাসন ও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।











