দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌখালিতে বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও নদীঘেরা পরিবেশের মধ্যে তৈরি হওয়া ‘অরণ্যের কূলে’ এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত নাম। তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লাকে খুঁজতে এনআইএ-র তৎপরতার মধ্যেই সামনে এসেছে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লার এই ক্যাফেকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ। নদীর চর ভরাট, সরকারি জমি দখল এবং পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
নদীর চর জুড়ে বিশাল ক্যাফে, প্রশ্নের মুখে নির্মাণ
মৌখালির প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝখানে গড়ে ওঠা ‘অরণ্যের কূলে’ প্রথম দর্শনেই নজর কাড়ে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তৈরি এই ক্যাফে স্থানীয় পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হলেও এর নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, নদীর চর ও সংলগ্ন সরকারি জমি ভরাট করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও চূড়ান্ত কোনও সরকারি বক্তব্য সামনে আসেনি।
পরিবেশকর্মীদের অভিযোগে বাড়ছে বিতর্ক
স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ও পরিবেশকর্মীদের দাবি, ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের সংবেদনশীল পরিবেশের মধ্যে এ ধরনের বড় নির্মাণ প্রকল্প এলাকার জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও চরাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই কারণেই বহুদিন ধরেই ক্যাফে নির্মাণের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল।
এনআইএ-র তল্লাশিতে ফের আলোচনায় ‘অরণ্যের কূলে’
শওকত মোল্লাকে খুঁজতে তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতার জেরে হঠাৎ করেই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে এই ক্যাফের নাম। তদন্তকারীরা বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি মৌখালির এই ক্যাফেতেও পৌঁছন বলে জানা যায়। এরপর থেকেই ‘অরণ্যের কূলে’ নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ক্যাফেটির ছবি ও অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
কোটি টাকার সাজসজ্জা, পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র
স্থানীয় সূত্রে দাবি, কয়েক একর এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা এই ক্যাফেতে পর্যটকদের জন্য বিশেষ পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। চারপাশে মেছো ভেড়ি, নদী ও ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের মনোরম পরিবেশ ‘অরণ্যের কূলে’-কে একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। কটেজ, বসার জায়গা এবং সাজানো অবকাঠামো মিলিয়ে এটি বর্তমানে সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত ক্যাফে হিসেবে পরিচিত।
সরকারি জমি ভরাটের অভিযোগে নতুন প্রশ্ন
স্থানীয় মহলের একাংশের অভিযোগ, শুধুমাত্র ক্যাফে নির্মাণ নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলেও মাটি ফেলে জমি ভরাট করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই জমির ব্যবহার ও মালিকানা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে এখনও তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান।
এনআইএ-র তল্লাশির মাঝেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে মৌখালির জনপ্রিয় ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’। অভিযোগ, নদীর চর ও সরকারি জমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে এই বিশাল ক্যাফে। পরিবেশকর্মী থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই এই নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। শওকত মোল্লাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে ফের নজরে এসেছে এই রেস্তোরাঁ-কাম-ক্যাফে।











