উত্তরবঙ্গ বা পাহাড়ি এলাকায় গেলে খাবারের তালিকায় যে নামটি প্রায় নিশ্চিতভাবে থাকে, তা হল চিকেন চয়লা। একসময় নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার হলেও আজ তা ছড়িয়ে পড়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিম থেকে শিলিগুড়ির অলিগলি পর্যন্ত। ঝাঁঝালো অথচ হালকা এই নেপালি পদ এখন বাড়িতেও সহজে বানিয়ে নিচ্ছেন খাদ্যরসিকরা।
চিকেন চয়লা কী? কেন এত জনপ্রিয়?
চয়লা মূলত নেপালের নেওয়ার সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আগে সেদ্ধ মাংস দিয়ে তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রান্নার ধরনে এসেছে পরিবর্তন। বর্তমানে গ্রিল বা ওভেনে বেক করা মাংস ব্যবহার করায় স্বাদ আরও গভীর ও মুখরোচক হয়েছে। অ্যাপেটাইজার বা স্টার্টার হিসেবে এই পদ বিশেষ জনপ্রিয়।

চিকেন চয়লার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ
এই পদ বানাতে লাগে খুব সাধারণ কিছু উপকরণ—
মুরগির বুকের মাংস
আদা-রসুন বাটা
জিরে-ধনে গুঁড়ো
চিকেন কারি মশলা
হলুদ ও লাল লঙ্কা গুঁড়ো
নুন ও অল্প তেল
টিমুর (সিচুয়ান) মরিচ
কাঁচা আদা-রসুন কুচি
পেঁয়াজ ও সেরানো পেপার
সেদ্ধ বা হালকা গরম করা টমেটো
এই উপকরণগুলির সমন্বয়ই চয়লার স্বাদকে আলাদা করে তোলে।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিকেন চয়লা বানাবেন যেভাবে
প্রথমে মুরগির মাংস গ্রিল করুন অথবা অল্প সেদ্ধ করে ওভেনে বেক করুন, যাতে মাংস নরম থাকে কিন্তু রস বজায় থাকে। এরপর মাংস লম্বা করে কেটে বা ছিঁড়ে নিন।একটি বড় পাত্রে মাংসের সঙ্গে একে একে সব মশলা, কুচনো পেঁয়াজ, আদা-রসুন ও টিমুর মরিচ মেশান। সবশেষে খোসা ছাড়ানো টমেটো ও সামান্য তেল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিলেই তৈরি ঝাঁঝালো চিকেন চয়লা।

স্বাদ ও স্বাস্থ্য—দুটোরই যত্ন
খাবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে রান্না করলে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার হয় না। ফলে ঝাল ও সুগন্ধে ভরপুর হলেও এটি তুলনামূলকভাবে হালকা খাবার। যারা কম মশলায় স্বাদ খুঁজছেন, তাঁদের কাছেও এই পদ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
দার্জিলিং–কালিম্পং–সিকিম ও শিলিগুড়ি অঞ্চলের জনপ্রিয় নেপালি খাবার চিকেন চয়লা এখন শহরের রান্নাঘরেও জায়গা করে নিচ্ছে। গ্রিল করা মুরগির মাংস, টিমুর মরিচ ও টাটকা মশলার ঝাঁঝে তৈরি এই পদ সহজেই বানানো যায় বাড়িতে। রইল সহজ রেসিপি ও খুঁটিনাটি।













