বাজারে প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ রয়েছে? সাবধান! নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর দোকানে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগ মজুত রাখা বা ক্রেতাকে তা দেওয়ার বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপের পথে প্রশাসন। ১ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যজুড়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর মঙ্গলবার শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটে যৌথ অভিযান চালানো হয়। কয়েকটি দোকানে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ সামনে আসায় জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কারা চালাল অভিযান?
শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটে এদিনের অভিযানে একাধিক সরকারি দফতর একসঙ্গে অংশ নেয়। শিলিগুড়ি পুরনিগম, খাদ্য সুরক্ষা দফতর এবং ইনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকরা বিভিন্ন দোকানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।দোকানে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ রাখা হয়েছে কি না, তা যেমন পরীক্ষা করা হয়, তেমনই ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন কি না, সেটিও দেখা হয়।
কয়েকটি দোকানে মিলল নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগ
অভিযানের সময় কয়েকটি দোকানে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ মজুত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। নিয়ম না মানার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।প্রশাসনের তরফে ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরেও দোকানে প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ রাখা কিংবা ক্রেতাদের হাতে তা তুলে দেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।অর্থাৎ পুরনো স্টক দোকানে রেখে দেওয়ার অজুহাতেও এবার রেহাই মিলবে না।
শুধু প্লাস্টিক নয়, পরীক্ষা হল ফুড লাইসেন্সও
এদিনের অভিযানে শুধু প্লাস্টিক ব্যাগের উপর নজর দেওয়া হয়নি। দোকানগুলির ফুড লাইসেন্স এবং ট্রেড লাইসেন্সও পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা।
পরিদর্শনের সময় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে ফুড লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি সামনে আসে। তাঁদের দ্রুত প্রয়োজনীয় লাইসেন্স করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ফুড লাইসেন্স তৈরি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ৭ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে হতে পারে FIR
প্রশাসনের বার্তায় আরও কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে। নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ রাখার জন্য যে জরিমানা করা হয়েছে, কোনও ব্যবসায়ী তা দিতে অস্বীকার করলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে এফআইআর করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।ফলে শুধু ব্যাগ দোকান থেকে সরিয়ে ফেললেই দায়িত্ব শেষ নয়—নিয়ম ভাঙলে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের মুখেও পড়তে হতে পারে।
আগামী দিনেও চলবে নজরদারি
প্রশাসনের এই অভিযানকে একদিনের কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন বাজারে আগামী দিনেও একই ধরনের নজরদারি চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর দোকানে এখনও প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ মজুত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের জন্য কী বার্তা?
প্রশাসনের অভিযানের পর মূলত তিনটি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে—
নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ দোকানে মজুত রাখা যাবে না।
ক্রেতাদের হাতে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগ দেওয়া যাবে না।
খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফুড লাইসেন্স থাকা জরুরি।
লাইসেন্স না থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরই শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটে শুরু হল প্রশাসনের কড়া নজরদারি। পুরনিগম, খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও ইনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের যৌথ অভিযানে কয়েকটি দোকানে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগ মজুত থাকার অভিযোগ সামনে আসে। জরিমানার পাশাপাশি ফুড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে ৭ দিনের সময়।










