Sinusitis vs Common Cold: সাইনাসের ব্যথা কি নিজে থেকেই সারে? ঘরোয়া উপায়ে মিলবে আরাম, সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে পার্থক্য জানুন

সাধারণ সর্দি-কাশি নাকি সাইনাসাইটিস? জেনে নিন দুই সমস্যার পার্থক্য, সাইনাসের ব্যথা নিজে থেকে সারে কি না, ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে আরাম পাবেন এবং কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি।

বর্ষা বা ঋতু পরিবর্তনের সময়ে নাক বন্ধ, ঘন সর্দি, মাথা ভার কিংবা কপাল-গালে চাপের মতো সমস্যা অনেকেরই হয়। অনেকেই এই উপসর্গ দেখেই ধরে নেন, সাইনাসের সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গেও এই লক্ষণগুলির বেশ মিল রয়েছে। তাহলে সাধারণ ঠান্ডা লাগা আর সাইনাসাইটিসের মধ্যে আসল তফাত কোথায়? সাইনাসের ব্যথা কি ওষুধ ছাড়াই কমতে পারে? আর বাড়িতে কী করলে সাময়িক স্বস্তি মিলবে? জানাচ্ছেন আইএলএস, হাওড়া হাসপাতালের ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডক্টর তনহা জারিন নাজ।

সাইনাসাইটিস আসলে কী?

সাইনাসাইটিস হল নাকের চারপাশে থাকা প্যারান্যাজাল সাইনাসের মিউকাস আবরণে প্রদাহ। সাইনাসের স্বাভাবিক নিষ্কাশনপথ বন্ধ হয়ে গেলে ভিতরে মিউকাস জমতে পারে। এর ফলে নাক বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে মুখের বিভিন্ন অংশে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।অন্যদিকে, সাধারণ সর্দি-কাশি মূলত উপরের শ্বাসনালীর ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি কয়েক দিনের মধ্যেই ধীরে ধীরে কমে যায়।

সাধারণ সর্দি-কাশি নাকি সাইনাসাইটিস, বুঝবেন কীভাবে?

সাইনাসাইটিসের ক্ষেত্রে নাক দিয়ে ঘন বা পুঁজযুক্ত সর্দি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে সমস্যা, মুখের নির্দিষ্ট অংশে ব্যথা বা চাপ এবং ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।সাধারণ সর্দি-কাশিতেও নাক দিয়ে জল পড়া, নাক বন্ধ হওয়া বা গলা খুসখুসের মতো সমস্যা থাকতে পারে। তবে সাইনাসাইটিসে মুখের নির্দিষ্ট অংশে চাপ বা ব্যথা এবং ঘন সর্দির মতো উপসর্গ বেশি চোখে পড়ে।

সাইনাসাইটিসের প্রধান কারণ কী?

তীব্র সাইনাসাইটিসের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুরুতে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ দায়ী। কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ যুক্ত হতে পারে।এ ছাড়াও অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, নাকের ভিতরের গঠনগত সমস্যা, সেপ্টাল ডেভিয়েশন এবং নাকের পলিপের মতো সমস্যাও সাইনাসের সমস্যা তৈরি বা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ঠান্ডা আবহাওয়া বা ঋতু পরিবর্তনে কেন বাড়ে সমস্যা?

ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস নাকের ভিতরের মিউকাসকে শুষ্ক করে দিতে পারে। এতে নাকের স্বাভাবিক পরিষ্কার হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। আবার ঋতু পরিবর্তনের সময়ে বাতাসে থাকা বিভিন্ন অ্যালার্জেনের প্রভাবেও নাকের ভিতরের অংশ ফুলে যেতে পারে।ফলে সাইনাসের স্বাভাবিক নিষ্কাশনপথে বাধা তৈরি হয়ে উপসর্গ আরও বাড়তে পারে।

সাইনাসের ব্যথা কি নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে?

হ্যাঁ, সব ক্ষেত্রে সাইনাসাইটিসের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। কোনও জটিলতা না থাকলে তীব্র ভাইরাসজনিত রাইনোসাইনুসাইটিস অনেক সময় ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই নিজে থেকে ভালো হয়ে যায়।তবে উপসর্গ বেশি হলে আরাম পেতে কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

বাড়িতে কী করলে মিলতে পারে স্বস্তি?

স্যালাইন দিয়ে নাক পরিষ্কার রাখা যেতে পারে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা দরকার।

বাষ্প গ্রহণ করলে নাক বন্ধের সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।

কপাল বা আক্রান্ত সাইনাসের অংশে উষ্ণ সেঁক দেওয়া যেতে পারে।

প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণ ব্যথানাশক নেওয়া যেতে পারে।

তবে নিজের ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা ঠিক নয়। কারণ সব সাইনাসের সমস্যা ব্যাকটেরিয়াজনিত নয়।

সাইনাসাইটিস থেকে বাঁচতে কী করবেন?

সাইনাসের সমস্যা কমাতে নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করা জরুরি। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থাকলে সেটির সঠিক চিকিৎসা করানো উচিত। পাশাপাশি তামাকের ধোঁয়া বা নাকের মিউকোসায় জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এমন উপাদান এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়াও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

কোন লক্ষণে দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?

সাইনাসের উপসর্গ ১০ দিনের বেশি সময় ধরে থাকলেও যদি কোনও উন্নতি না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আবার প্রথমে কিছুটা ভালো হওয়ার পর হঠাৎ উপসর্গ আরও বেড়ে গেলেও সতর্ক হওয়া দরকার।চোখের চারপাশে ফোলাভাব, একপাশে তীব্র মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন অথবা মানসিক অবস্থায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া জরুরি।

দীর্ঘস্থায়ী সাইনাসাইটিসে কি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন?

সব রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না। তবে ১২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সাইনাসের সমস্যা থাকলে এবং যথাযথ চিকিৎসার পরেও উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে না এলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের কথা বিবেচনা করতে পারেন।এ ক্ষেত্রে FESS বা ফাংশনাল এন্ডোস্কোপিক সাইনাস সার্জারির মাধ্যমে সাইনাসের স্বাভাবিক পথ খুলে দেওয়া এবং মিউকাস নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়।

নাক বন্ধ, মাথাব্যথা বা সর্দি হলেই যে সাইনাসাইটিস হয়েছে, তা নয়। সাধারণ ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি এবং সাইনাসাইটিসের উপসর্গে মিল থাকলেও দুটির মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞের মতে, জটিলতা না থাকলে তীব্র ভাইরাসজনিত সাইনাসের সমস্যা অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a comment