বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে শুধু টাকা জমানোই যথেষ্ট নয়, দরকার সঠিক বিনিয়োগ কৌশল। মাসে অল্প অল্প টাকা জমিয়ে ২০ বছরে কোটিপতি হওয়া কি সত্যিই সম্ভব? SIP, FD ও EMI—এই তিনটি জনপ্রিয় আর্থিক পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণই দেবে সেই প্রশ্নের উত্তর।
ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের তিন রাস্তা: কোনটা কতটা কার্যকর?
আজকের দিনে মধ্যবিত্তের সামনে মূলত তিনটি পথ খোলা—ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (FD), মিউচ্যুয়াল ফান্ডে সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP) এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে নেওয়া EMI। কিন্তু তিনটির উদ্দেশ্য ও ফল একেবারেই আলাদা।
FD: নিরাপত্তা আছে, কিন্তু গতি কম
শেষে সুদে-আসলে অঙ্ক দাঁড়াতে পারে আনুমানিক ৫০-৫২ লক্ষ টাকা।
কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি ধরলে এই টাকার প্রকৃত মূল্য অনেকটাই কমে যায়। অর্থাৎ নিরাপত্তা থাকলেও কোটিপতি হওয়ার রাস্তা এখানে বেশ ধীর।
EMI: সম্পদ নয়, বরং খরচের ফাঁদ
EMI মূলত সঞ্চয়ের মাধ্যম নয়। মাসে ১০,০০০ টাকা EMI দিলে ২০ বছরে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায়—কিন্তু হাতে কোনও ফান্ড তৈরি হয় না। বরং সুদের চাপে অনেক সময় অতিরিক্ত টাকা ব্যাঙ্কে চলে যায়।অর্থাৎ EMI সুবিধাজনক হলেও ভবিষ্যৎ সম্পদ গঠনের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে দুর্বল পথ।
SIP: চক্রবৃদ্ধির জাদুতেই কোটিপতি হওয়ার রাস্তা
এবার আসা যাক SIP-এর কথায়। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে মাসে ১০,০০০ টাকা করে ২০ বছর বিনিয়োগ করলে মোট জমা হয় ২৪ লক্ষ টাকা।
যদি গড়ে ১২% রিটার্ন ধরা হয়, তাহলে ২০ বছর শেষে ফান্ড দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি টাকা। আর রিটার্ন ১৫% হলে সেই অঙ্ক পৌঁছতে পারে ১.৫ কোটি টাকায়।
শেয়ার বাজারের ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে SIP-ই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা গড়তে SIP, FD না EMI—কোনটি সবচেয়ে লাভজনক? ২০ বছরের হিসেব কষে দেখে নেওয়া হল তিন জনপ্রিয় আর্থিক পথের বাস্তব চিত্র। চক্রবৃদ্ধি সুদে কোথায় কোটিপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, আর কোন পথে পকেট ফাঁকাই বাস্তবতা—জানুন বিস্তারিত।













