ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতা আনতে আরও এক ধাপ এগোল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে Special Investigation Revision (SIR) প্রক্রিয়ায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিস পাওয়া ভোটারদের জন্য প্রতিটি বিধানসভায় তৈরি হচ্ছে ১১টি করে শুনানি কেন্দ্র। শুনানির দিন কী করতে হবে, কী নিয়ে যেতে হবে এবং কী কী নিষেধ—সবটাই নির্দিষ্ট নিয়মে বেঁধে দিল কমিশন।
কেন ৩২ লক্ষ ভোটারকে নোটিস?
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান ভোটার তালিকার তথ্যের অমিল ধরা পড়েছে প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে। সেই কারণেই ওই ভোটারদের পরিচয় ও নথি যাচাই করতে শুরু হয়েছে SIR প্রক্রিয়া।
কোথায় ও কীভাবে হবে শুনানি
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভায় ১১টি করে টেবিল বা শুনানি কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ফলে মোট শুনানি কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩২৩৪টি।
এই শুনানি কেন্দ্রগুলি মূলত
বিডিও অফিস
এসডিও অফিস
জেলাশাসকের দপ্তর
অন্যান্য সরকারি দপ্তরে
যেখানে সরকারি দপ্তর নেই, সেখানে বিশেষ অনুমতিতে স্কুল বা কলেজে শুনানি কেন্দ্র করা হচ্ছে।
শুনানির দিন ভোটারদের কী করা হবে
নোটিস পাওয়া ভোটারকে নির্দিষ্ট দিনে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে হবে। সেখানে—
ভোটারের লাইভ ছবি তোলা হবে
সই সংগ্রহ করা হবে
সমস্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা হবে
এই তথ্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (DEO) ও জেলাশাসকের কাছে পৌঁছে যাবে।
নথি যাচাইয়ে ৫ দিনের ডেডলাইন
ভোটার যে নথি জমা দেবেন, তা—
আসল
ভুয়া
অথবা অসত্য
এই তিনটির কোনটি, তা যাচাই করে ৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে জেলা নির্বাচন আধিকারিককে।
কড়া প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক এজেন্ট নিষিদ্ধ
শুনানি কেন্দ্রের ভিতরে থাকতে পারবেন শুধুমাত্র—
সংশ্লিষ্ট ভোটার
বুথ লেভেল অফিসার (BLO)
অ্যাসিস্ট্যান্ট ERO
ERO
মাইক্রো অবজারভার
ইলেক্টোরাল রোল অবজারভার
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক
রাজনৈতিক দলের কোনও বুথ লেভেল এজেন্টের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে পুরো শুনানি প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা হতে পারে।
প্রতিদিন কতজনের শুনানি?
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী—
প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫০ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হবে
যাতে ভিড় না হয় এবং প্রত্যেকের নথি খুঁটিয়ে যাচাই করা যায়
ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। রাজ্যের ২৯৪ বিধানসভায় মোট ৩২৩৪টি শুনানি কেন্দ্র খুলছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে গরমিল থাকায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। শুনানিতে ছবি, সই সংগ্রহ, কড়া প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক এজেন্ট নিষিদ্ধ।










