খসড়া তালিকায় নাম থাকলেই নিশ্চিন্ত নন! শুনানি পর্বেও বাদ পড়তে পারেন, তখন কী করবেন ভোটাররা?

SIR West Bengal: খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও শুনানি পর্বে বাদ পড়তে পারেন। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি, চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকলে কোথায় আবেদন করবেন জানুন।

কলকাতা: খসড়া ভোটার তালিকায় নিজের নাম দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকলে বিপদ! নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—খসড়ায় নাম থাকলেও শুনানি পর্বে বাদ পড়তে পারে ভোটারদের নাম। ফলে এখন থেকেই সচেতন না হলে চূড়ান্ত তালিকায় নাম হারানোর আশঙ্কা থাকছে।

খসড়া তালিকা প্রকাশ, কিন্তু শেষ কথা নয়

মঙ্গলবার রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR)-র আওতায় পূর্ণাঙ্গ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রতিটি বুথে কতজন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, বুথওয়ারি সেই তথ্য কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশনের অ্যাপের মাধ্যমেও ভোটাররা নিজেদের নাম যাচাই করতে পারছেন।

শুনানিতে ডাক পড়তে পারে যাদের

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেসব ভোটারের দেওয়া নথি বা তথ্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হবে। এই শুনানি প্রক্রিয়া চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। শুনানিতে সন্তোষজনক তথ্য দিতে না পারলে, খসড়া তালিকায় নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে।

কবে প্রকাশ হবে চূড়ান্ত তালিকা?

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী,

 ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

এই তালিকাতেই নির্ধারিত হবে কারা ভোটাধিকার বজায় রাখছেন আর কারা বাদ পড়ছেন।

চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকলে কী করবেন?

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর যদি কোনও ভোটারের নাম না থাকে, তাহলে করণীয় কী?

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী—

প্রথমে আবেদন করতে হবে জেলাশাসকের (District Magistrate) কাছে

সেখানে আবেদন খারিজ হলে

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Chief Electoral Officer)-এর কাছে আপিল করার সুযোগ থাকবে

অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী জানান,

“চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ভোটারের আপত্তি থাকলে জেলাশাসকের কাছে আবেদন করা যাবে। সেই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আপিলের সুযোগ থাকবে।”

ইআরও-দের বাড়তি ক্ষমতা দেওয়ার ভাবনা

নির্বাচন কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) অর্থাৎ মহকুমাশাসকদের আরও স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন,

“ইআরও-দের স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হচ্ছে। তাঁদের উপরে নজরদারির জন্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও থাকবেন।”

খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানি প্রক্রিয়া। নাম বাদ গেলে কোথায় আবেদন করবেন, কী বলছে নির্বাচন কমিশন—জানুন বিস্তারিত।

 

Leave a comment