পড়াশোনার বিষয় এক, আর পেশার পথ সম্পূর্ণ আলাদা—স্মিত মচ্ছারের কেরিয়ারের গল্প যেন তারই উদাহরণ। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং দিয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করলেও একটি বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত সেমিনার তাঁর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা বদলে দেয়। এরপর পাইলটের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাণিজ্যিক বিমান চালানোর জগতে প্রবেশ করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর অভিজ্ঞতা ও পেশাদার দক্ষতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটে যাওয়া ঘটনার সূত্রে।
দ্বাদশের পর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা
স্মিত মচ্ছার প্রথম থেকেই পাইলট হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোননি। দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পর তিনি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তী সময়ে ম্যানেজমেন্টের দিকেও এগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১৯ বছর বয়সে বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর তাঁর ভাবনায় পরিবর্তন আসে। সেখান থেকেই পাইলট হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয় এবং নতুন পেশার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডে পাইলটের প্রশিক্ষণ
বাণিজ্যিক পাইলট হওয়ার লক্ষ্যে স্মিত মচ্ছার নিউজিল্যান্ডে যান। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় তাঁর পাইলট প্রশিক্ষণে প্রায় ১৬–১৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। প্রশিক্ষণ শেষ করে ভারতে ফিরে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার পথে এগিয়ে যান তিনি। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় আসার এই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে ওঠে।
স্পাইসজেটে শুরু পেশাদার কেরিয়ার
২০১১ সালের জুন মাসে স্পাইসজেটে যোগ দেন স্মিত মচ্ছার। এই বিমান সংস্থায় এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করেন তিনি। বোয়িং বিমানে উড়ানের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ধাপে ধাপে সিনিয়র কমান্ডার ও লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পান। এই পদে নিয়মিত উড়ান পরিচালনার পাশাপাশি অন্যান্য পাইলটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাঁদের দক্ষতা মূল্যায়নের কাজও করতে হত তাঁকে।
ফ্লাইদুবাইয়ে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগদান
২০২২ সালের জুন মাসে ফ্লাইদুবাইয়ে সরাসরি ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন স্মিত। তাঁর পেশাগত প্রোফাইলের উল্লেখ করে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের বিভিন্ন সংস্করণে তাঁর মোট উড়ানের অভিজ্ঞতা প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা। এর মধ্যে স্পাইসজেটে কর্মরত থাকাকালীন পাইলট-ইন-কমান্ড হিসেবে ৬,৪০০ ঘণ্টারও বেশি উড়ান সম্পন্ন করেছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর মাঝআকাশে কী ঘটেছিল?
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমান। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, উড়ানের সময় ককপিটের ভিতরে দুই পাইলটের মধ্যে গুরুতর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় স্মিত মচ্ছার আহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্যের উল্লেখ করে রয়টার্সের রিপোর্টে বলা হয়, ঘটনার সময় বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উচ্চতা হারিয়েছিল। প্রায় ৩০ সেকেন্ডে বিমানটি ১৪,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতা থেকে নেমে আসে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।
আহত অবস্থাতেও বিমানটিকে নিরাপদে ফেরানোর চেষ্টা
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, আহত হওয়া সত্ত্বেও স্মিত মচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। বিমানটিকে পরে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক শহরের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।ফ্লাইদুবাই জানিয়েছিল, গন্তব্যের পথে বিমানটিতে একটি ঘটনা ঘটেছিল এবং যাত্রী ও বিমানকর্মীরা নিরাপদে ছিলেন। এই ঘটনার পর অভিজ্ঞ ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের পেশাগত জীবন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে।
ছোটবেলায় পাইলট হওয়ার স্বপ্ন না থাকলেও জীবনের মোড় ঘুরে যায় মাত্র ১৯ বছর বয়সে। দ্বাদশ শ্রেণির পর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানেজমেন্টের পথে এগোনো স্মিত মচ্ছার পরে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে কমার্শিয়াল পাইলটের প্রশিক্ষণ নেন। স্পাইসজেট ও ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করে তিনি অর্জন করেছেন ১৩ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা এবং বোয়িং ৭৩৭ বিমানে প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি মাঝআকাশে ঘটে যাওয়া একটি গুরুতর ঘটনার পর তাঁকে নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।











