বাড়িতে সোলার প্যানেল বসাবেন? আগে জেনে নিন ‘২০% নিয়ম’, এই ভুলে বাড়তে পারে খরচ, কমবে না বিদ্যুৎ বিল!

বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর আগে জানুন ‘২০ শতাংশ নিয়ম’ কী। বিদ্যুৎ ব্যবহার, ভবিষ্যতের চাহিদা ও নেট মিটারিংয়ের সুবিধা মাথায় রেখে কীভাবে সঠিক সোলার সিস্টেম বেছে নেবেন, জেনে নিন।

বিদ্যুতের বিল কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয় করতে বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু সোলার সিস্টেম কেনার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করলেই ভবিষ্যতে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে পারেন। তাই প্যানেল কেনার আগে বাড়ির গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার, আবহাওয়া এবং ভবিষ্যতে বাড়তে পারে এমন বিদ্যুতের চাহিদা মাথায় রেখে সিস্টেমের ক্ষমতা নির্ধারণ করা উচিত। এক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে ‘২০ শতাংশ নিয়ম’।

কী এই ‘২০ শতাংশ নিয়ম’?

সহজভাবে বললে, বাড়ির গড় বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে—এমন সোলার সিস্টেম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এই নিয়মে। কারণ, সোলার প্যানেল প্রতিদিন একই পরিমাণ বিদ্যুৎ তৈরি করে না।মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি, শীতকালে সূর্যালোকের ঘাটতি কিংবা প্যানেলে ধুলো জমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে। তাই কিছুটা অতিরিক্ত ক্ষমতার সিস্টেম থাকলে উৎপাদন কমে যাওয়ার দিনগুলিতেও বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদা সামলানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

গরম-শীতের বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদাও সামলানো যাবে

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনও বদলে যায়। গরমকালে এসি, কুলার ও ফ্রিজের ব্যবহার বাড়তে পারে। আবার শীতকালে হিটার বা গিজারের মতো যন্ত্র বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে।এই পরিস্থিতিতে শুরু থেকেই কিছুটা বাড়তি ক্ষমতার সোলার সিস্টেম থাকলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে সুবিধা হতে পারে। তবে বাস্তবে কতটা অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োজন, তা বাড়ির ব্যবহার ও স্থানীয় সূর্যালোকের পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

ভবিষ্যতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে কি না, ভাবুন এখনই

আজ বাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবহার কম হলেও ভবিষ্যতে তা বাড়তে পারে। যেমন, বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য অতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহার, নতুন এসি কেনা কিংবা ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) চার্জ করার মতো কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে।তাই সোলার প্যানেল বসানোর সময় ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ব্যবহারও হিসাব করা বুদ্ধিমানের কাজ। শুরুতেই উপযুক্ত ক্ষমতার সিস্টেম বসাতে পারলে পরে বড় ধরনের আপগ্রেডের প্রয়োজন কমতে পারে।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠিয়ে মিলতে পারে সুবিধা

সোলার সিস্টেম বাড়ির প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে কিছু ক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠানোর সুযোগ থাকতে পারে। তবে এই সুবিধা নির্ভর করে আপনার রাজ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা এবং প্রযোজ্য নেট মিটারিং বা সংশ্লিষ্ট নিয়মের উপর।যেখানে এই সুবিধা কার্যকর, সেখানে অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিনিময়ে বিদ্যুৎ বিলে ক্রেডিট বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। ফলে সঠিক পরিকল্পনা করলে সোলার সিস্টেম দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শুধু ‘২০ শতাংশ’ দেখেই সিস্টেম কিনবেন না

তবে মনে রাখতে হবে, ‘২০ শতাংশ নিয়ম’ কোনও সর্বজনীন সরকারি বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। এটি মূলত একটি পরিকল্পনামূলক ধারণা। সোলার সিস্টেমের সঠিক ক্ষমতা নির্ধারণের আগে গত ১২ মাসের বিদ্যুৎ বিল, বাড়ির দৈনিক ব্যবহার, ছাদের অবস্থান, সূর্যালোকের পরিমাণ, ব্যাটারি ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা বিবেচনা করা জরুরি।

বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা থাকলে শুধু প্যানেলের দাম বা ক্ষমতা দেখলেই হবে না। বাড়ির বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের চাহিদা হিসাব করে সোলার সিস্টেম বেছে নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হিসেবে আলোচিত ‘২০ শতাংশ নিয়ম’ মেনে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা বেশি ক্ষমতার সিস্টেম বেছে নিলে মেঘলা দিন বা কম সূর্যালোকের সময়েও বিদ্যুতের চাহিদা সামলানো সহজ হতে পারে।

Leave a comment