স্পেনের ৩-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট জয়, কোয়ার্টার ফাইনালে অগ্রগতি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে স্পেন ৩-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। মিকেল ওয়ারিয়ারজাবাল দুটি এবং পেদ্রো পোরো একটি গোল করেন। স্পেন টানা চতুর্থ ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রেখে ২০১০ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট জয় নিবন্ধন করেছে।

স্পেন ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এটি ২০১০ সালের পর স্পেনের প্রথম নকআউট জয়। পুরো ম্যাচজুড়ে দলটি বলের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত আক্রমণ এবং দৃঢ় রক্ষণভাগের প্রদর্শন করে।

ম্যাচের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই স্পেন অস্ট্রিয়ার ওপর প্রাধান্য বজায় রাখে। দলটি টানা চতুর্থ ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখে, আর অস্ট্রিয়া পুরো ম্যাচে গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোনকে পুরো ম্যাচে একটি সেভও করতে হয়নি।

দুই দলই সতর্কভাবে ম্যাচ শুরু করলেও হাইড্রেশন বিরতির পর স্পেন খেলার গতি বাড়ায়। ধারাবাহিক আক্রমণের ফল আসে ৩৬তম মিনিটে।

লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়ার পাস থেকে সুযোগ পেয়ে মিকেল ওয়ারিয়ারজাবাল বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটি টুর্নামেন্টে তাঁর তৃতীয় গোল। প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে এবং অস্ট্রিয়াকে সমতায় ফেরার সুযোগ দেয়নি।

বিরতির পরও স্পেন নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে। দ্রুত পাসিং, উইং প্লে এবং ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে তারা অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে।

দ্বিতীয় গোলটি আসে আলেক্স বাইয়েনার আক্রমণ থেকে। তিনি বল পৌঁছে দেন পেদ্রো পোরোর কাছে, যিনি নিখুঁত হেডে ব্যবধান ২-০ করেন। এটি পোরোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।

স্পেনের ৩-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট জয়, কোয়ার্টার ফাইনালে অগ্রগতি

ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে আবারও মার্ক কুকুরেয়ার অ্যাসিস্ট থেকে মিকেল ওয়ারিয়ারজাবাল নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন।

স্পেনের হয়ে মিকেল ওয়ারিয়ারজাবাল দুটি গোল করেন। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন চার।

১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল চোট থেকে ফিরে আবারও খেলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের ১০টি অন-টার্গেট শটের মধ্যে চারটি ছিল তাঁর। ৮৫তম মিনিটে তাঁর একটি প্রচেষ্টা প্রায় গোলে পরিণত হচ্ছিল, কিন্তু অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন। কয়েক মিনিট পর কোচ তাঁকে বিশ্রাম দেওয়ার উদ্দেশ্যে মাঠ থেকে তুলে নেন।

স্পেনের রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচে দৃঢ় ছিল। অস্ট্রিয়া গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। ডিফেন্ডাররা মিডফিল্ডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরুতেই প্রতিহত করেন। দলটি টানা চতুর্থ ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখে।

৩-০ ব্যবধানে হারলেও অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। তিনি মোট ছয়টি সেভ করে স্পেনকে আরও গোল করা থেকে বিরত রাখেন। তবে তিনটি আক্রমণ ঠেকাতে পারেননি।

ম্যাচ শেষে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বড় দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের সেরা খেলাই উপহার দেয়। তাঁর মতে, দলটি প্রায় নিখুঁত ম্যাচ খেলেছে, তবে সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকায় উন্নতির সুযোগ এখনও রয়েছে।

১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছেছিল অস্ট্রিয়া। তবে স্পেনের বিপক্ষে হেরে তাদের টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে। পুরো প্রতিযোগিতায় তারা লড়াকু পারফরম্যান্স দেখালেও নকআউট ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে এগোতে পারেনি।

 

Leave a comment