সুলতানপুরে শ্রদ্ধা সিং হত্যা মামলায় দুইজন দোষী, আজ সাজা নির্ধারণের শুনানি

উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরে শ্রদ্ধা সিং হত্যা মামলায় সুভাষ সিং চৌহান ও জয়করনকে হত্যা-সহ অন্যান্য ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট-২। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাদের সাজা নিয়ে শুনানি হবে।
সুলতানপুরে শ্রদ্ধা সিং হত্যা মামলায় দুইজন দোষী, আজ সাজা নির্ধারণের শুনানি
Photo Credit / Attribution: Google

উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরে প্রায় ছয় বছর পুরনো শ্রদ্ধা সিং হত্যা মামলায় আদালত দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সুভাষ সিং চৌহান ও জয়করনের সাজা নির্ধারণের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট-২ তাদের হত্যা-সহ অন্যান্য ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছে।

মামলাটি সুলতানপুরের বলদিরাই থানার টড়রসা ঐঁজর গ্রামের সঙ্গে যুক্ত। রিপোর্ট অনুযায়ী, শ্রদ্ধা সিং বাড়ির সামনে থাকা হ্যান্ডপাম্প থেকে জল নিচ্ছিল। সেই সময় তাকে ডেকে নেওয়া হয় এবং অভিযোগ, জয়করন, সুভাষ সিং চৌহান ও অন্যরা তার হাত-পা বেঁধে দেন। এরপর তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। চিৎকার শুনে লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় শ্রদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে তাকে সিএইচসি ধনপতগঞ্জে এবং পরে জেলা হাসপাতাল থেকে লখনউ ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শ্রদ্ধার মৃত্যুর পর তার মা অর্চনা দেবী পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ জগবরন যাদব, সুভাষ সিং চৌহান, জয়করন এবং মহন্থের বিরুদ্ধে হত্যা-সহ অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করে।

তদন্তের পর সুভাষ সিং ও জয়করনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপের ভিত্তিতে জগবরন যাদব এবং মহন্থকেও মামলার শুনানির জন্য আদালতে তলব করা হয়। এভাবে মামলায় অভিযুক্তদের ভূমিকা নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে এগোতে থাকে।

ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট-২-এ মামলার শুনানি হয়। বুধবার আদালত সুভাষ সিং চৌহান ও জয়করনকে হত্যা-সহ অন্যান্য ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দুজনকেই জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত তাদের সাজা নিয়ে শুনানির জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিল। অর্থাৎ আজ আদালত নির্ধারণ করবে, দুই দোষীকে কোন কোন ধারায় কতটা সাজা দেওয়া হবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার পর দুই অভিযুক্তকে জেলে পাঠানো হয়েছিল এবং মামলার গুরুত্বের কারণে তারা জামিন পাননি। এর মধ্যে মামলার আরেক অভিযুক্ত মহন্থ চৌহানকে জুলাই ২০২৬-এ পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। আদালত তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে জেলা জেলে পাঠায়। তার নথি আলাদা করে তার বিরুদ্ধে শুনানি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মামলার আরেক অভিযুক্ত জগবরন যাদবের নথিতে হাইকোর্টের নির্দেশের পর কার্যক্রম স্থগিত থাকার কথা জানা গেছে। ফলে তার বিরুদ্ধে চলা বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিস্থিতি পৃথক রয়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মহন্থ চৌহানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ফলে ছয় বছর পুরনো এই মামলায় সব অভিযুক্তের বিচারিক অবস্থান এক নয় এবং বিভিন্ন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা পৃথক পর্যায়ে রয়েছে।

শ্রদ্ধা সিং হত্যা মামলার ঘটনা ২০২০ সালের। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে। সুভাষ সিং চৌহান ও জয়করন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আজ তাদের সাজা নির্ধারণের শুনানি হবে।

দোষী সাব্যস্ত করা এবং সাজা ঘোষণা করা আইনি প্রক্রিয়ার দুটি পৃথক ধাপ। আদালত প্রথমে দুই অভিযুক্তকে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এখন সাজা কতদিনের হবে এবং অন্যান্য দণ্ডের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।

মামলায় পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে শুনানি এগিয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এখন সাজা নির্ধারণের পর্যায়ে আদালত মামলার ধারাগুলি এবং আইনের বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।

ঘটনার সময় শ্রদ্ধার বয়স ১৬ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাড়ির সামনে জল নেওয়ার সময় তার সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতরভাবে দগ্ধ হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লখনউ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি।

বর্তমানে সুভাষ সিং চৌহান ও জয়করন হত্যা-সহ অন্যান্য ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, জগবরন যাদব এবং মহন্থ চৌহানকে ঘিরে বিচারিক প্রক্রিয়া পৃথক পর্যায়ে চলছে। জুলাইয়ে মহন্থের গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া এগিয়েছে, আর জগবরনের নথিতে হাইকোর্টের নির্দেশের কারণে কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

আজ সুলতানপুরের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট-২-এ দুই দোষীর সাজা সংক্রান্ত শুনানি হবে। ছয় বছর আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় তদন্ত, চার্জশিট এবং দীর্ঘ বিচারপর্বের পর দোষসিদ্ধির পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হলো সাজা নির্ধারণ।

Leave a comment