রুটি বানাতে গিয়ে কখনও গোলের বদলে মানচিত্রের মতো আকৃতি হয়ে যায়? একদিকে মোটা, অন্যদিকে পাতলা—এমন সমস্যায় নতুন রাঁধুনিদের পাশাপাশি অভিজ্ঞরাও পড়েন। কিন্তু নিখুঁত গোল রুটির জন্য শুধু বেলন-চাকির উপর নির্ভর করতে হবে এমন নয়। রান্নাঘরে থাকা প্লেট, সমতল ট্রে কিংবা পরিষ্কার কাউন্টারও কাজে লাগানো যেতে পারে।
প্রথম শর্ত নরম মণ্ড
গোল রুটি তৈরির আসল কাজ শুরু হয় মণ্ড তৈরি করার সময়। আটা ও প্রয়োজনমতো জল দিয়ে মণ্ড ভালোভাবে মেখে নিন। মণ্ড যেন অতিরিক্ত শক্ত বা খুব বেশি চটচটে না হয়।মণ্ড মসৃণ হলে ছোট ছোট সমান ভাগ করে গোল করে নিন। হাতের তালুর মধ্যে ঘুরিয়ে প্রতিটি লেচি যত বেশি মসৃণ হবে, পরে সেটিকে গোল করে ছড়ানো তত সহজ হবে।
বেলন-চাকি নেই? পরিষ্কার কাউন্টারেই করুন
রান্নাঘরের পরিষ্কার, মসৃণ কাউন্টার থাকলে সেটিকেই কাজের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রথমে কাউন্টার ভালোভাবে পরিষ্কার ও শুকিয়ে নিন। এরপর অল্প আটা ছড়িয়ে গোল লেচিটি রাখুন।হাতের আঙুল দিয়ে প্রথমে লেচিটিকে হালকা চ্যাপ্টা করে নিন। এরপর সমান চাপ দিয়ে ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়ান। মণ্ডটি এক জায়গায় রেখে শুধু একদিকে চাপ না দিয়ে মাঝে মাঝে ঘুরিয়ে নিন। এতে আকৃতি তুলনামূলকভাবে গোল থাকে।
বড় প্লেটও হতে পারে বেলন-চাকির বিকল্প
কাউন্টার ছোট হলে একটি বড়, সমতল প্লেট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্লেটের উপর সামান্য আটা ছড়িয়ে লেচি রাখুন।মাঝখান থেকে ধীরে ধীরে বাইরের দিকে চাপ দিয়ে মণ্ড ছড়াতে থাকুন। কাজের সময় লেচিটি ঘোরাতে থাকলে চাপ চারদিকে সমানভাবে পড়বে। ফলে রুটির কোনও একটি অংশ অতিরিক্ত মোটা বা পাতলা হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
সমতল ট্রে দিয়েও কাজ চালানো যায়
একটি পরিষ্কার ও মসৃণ ট্রে থাকলেও সমস্যা নেই। প্রয়োজনে ট্রে উল্টে তার সমতল দিকটি ব্যবহার করা যায়।
এর উপর সামান্য আটা ছড়িয়ে লেচি রেখে আলতো হাতে ছড়িয়ে নিন। ছোট রান্নাঘরে এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে সুবিধাজনক হতে পারে।
হাত দিয়েও গোল রুটি বানানো সম্ভব
বেলন একেবারেই ব্যবহার করতে না চাইলে হাতের সাহায্যেও লেচি চ্যাপ্টা করে ছড়ানো যায়। প্রথমে দুই হাতের তালু দিয়ে হালকা চাপ দিন। এরপর আঙুলের ডগা দিয়ে মাঝখান থেকে বাইরের দিকে মণ্ডটি প্রসারিত করুন।এই সময় লেচিটি ঘুরিয়ে নিতে থাকুন। প্রথম কয়েকবার একেবারে নিখুঁত গোল নাও হতে পারে। নিয়মিত অনুশীলন করলে হাতের চাপের সঙ্গে মণ্ডের আচরণ বুঝতে সুবিধা হবে।
মণ্ড ঘোরানোই গোল রুটির অন্যতম কৌশল
রুটি গোল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল মণ্ড ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছড়ানো। একই জায়গায় বারবার চাপ দিলে রুটির এক দিক লম্বা হয়ে যেতে পারে।তাই কয়েকবার চাপ দেওয়ার পর লেচিটি সামান্য ঘুরিয়ে আবার একইভাবে ছড়ান। এতে চাপ তুলনামূলকভাবে সমানভাবে বণ্টিত হয়।
বেশি আটা দেবেন না
লেচি যাতে আটকে না যায়, তার জন্য অল্প আটা ব্যবহার করাই যথেষ্ট। বেশি শুকনো আটা ব্যবহার করলে মণ্ড সামলানো কঠিন হতে পারে এবং রান্নার সময় রুটির গায়ে অতিরিক্ত আটা লেগে যেতে পারে।মণ্ড একটু চটচটে হলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে আটা ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত চাপ দিলে উল্টো সমস্যা
রুটি দ্রুত বড় করতে গিয়ে জোরে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত চাপ পড়লে মাঝখান বা কোনও একটি অংশ অত্যন্ত পাতলা হয়ে যেতে পারে।
আলতো হাতে সমান চাপ দিয়ে ধীরে ধীরে মণ্ড ছড়ান। প্রান্ত বারবার টেনে ঠিক করার বদলে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আকার তৈরি করাই সহজ পদ্ধতি।
রুটি সেঁকার সময় তাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ
রুটি তৈরি হয়ে গেলে আগে তাওয়া ভালোভাবে গরম করে নিন। তাওয়া যথেষ্ট গরম হলে তার উপর রুটি দিন।
এক পাশ কিছুটা সেঁকা হয়ে ছোট ছোট বুদ্বুদ উঠতে শুরু করলে উল্টে দিন। দ্বিতীয় পাশেও হালকা বাদামি ছোপ দেখা গেলে রুটি নামিয়ে নিতে পারেন।
রুটি যদি সমানভাবে বেলা হয়, তাহলে তাপও তুলনামূলকভাবে সমানভাবে পৌঁছবে এবং সেঁকার সময়ও সুবিধা হবে।
রুটি বানাতে গিয়ে গোল আকৃতি পাওয়া অনেকের কাছেই বেশ কঠিন। তবে বেলন-চাকি না থাকলেও কয়েকটি সহজ কৌশলে সুন্দর রুটি তৈরি করা সম্ভব। নরম মণ্ড, সমান চাপ এবং বারবার মণ্ড ঘোরানোর কৌশলই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।













