হঠাৎ মাঝরাতে পায়ের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া বা তীব্র টানে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বেশ কষ্টকর। কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত চলতে পারে এই ধরনের ক্র্যাম্প। অনেকেই ভাবেন, শরীরে কোনও ভিটামিনের ঘাটতি হলেই এমন হয়। আসলে বিষয়টি এতটা সরল নয়। শরীরের পুষ্টির ঘাটতি ছাড়াও পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, কিছু ওষুধ কিংবা অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও পায়ে ক্র্যাম্প হতে পারে।
ভিটামিন D-এর ঘাটতি থাকলে কী হতে পারে?
শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং পেশি ও হাড়ের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় ভিটামিন D গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে পেশিতে দুর্বলতা, ব্যথা বা অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।তবে শুধু পায়ে রাতে টান ধরলেই যে ভিটামিন D-এর ঘাটতি রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করে ঘাটতি নির্ণয় করা যেতে পারে।
B12 কমলেও হতে পারে ঝিনঝিনানি
ভিটামিন B12 স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। এর ঘাটতিতে বিশেষ করে হাত-পায়ে ঝিনঝিন, অসাড়তা, জ্বালাপোড়া বা অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।কিছু ক্ষেত্রে হাঁটার সময় ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা স্নায়ুজনিত ব্যথাও হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে এমন উপসর্গ থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
B1 বা থায়ামিনের ঘাটতিতেও প্রভাব পড়তে পারে
ভিটামিন B1 বা থায়ামিন শরীরের শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতার সঙ্গে যুক্ত। ঘাটতি বেশি হলে পেশির দুর্বলতা, ক্লান্তি বা পায়ে অস্বাভাবিক অনুভূতি দেখা দিতে পারে।তবে সাধারণ রাতের পায়ের ক্র্যাম্পের জন্য নিজে থেকে B1-এর সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়। উপসর্গের কারণ বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ভিটামিন E-এর ঘাটতি তুলনামূলক বিরল
ভিটামিন E-এর ঘাটতি সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে দীর্ঘমেয়াদি বা নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় এর ঘাটতি হলে স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতায় প্রভাব পড়তে পারে।এর সঙ্গে পেশির দুর্বলতা, চলাফেরার সমন্বয়ে সমস্যা কিংবা শরীরের কোনও অংশে অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ যুক্ত হতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম-পটাশিয়ামও গুরুত্বপূর্ণ
একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম ভিটামিন নয়, এগুলি খনিজ ও ইলেক্ট্রোলাইট। শরীরে এগুলির ভারসাম্য পেশির স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।ঘাটতি বা ভারসাম্যের সমস্যা থাকলে পেশিতে টান বা খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম, পানিশূন্যতা বা কিছু শারীরিক অবস্থায় ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
মাঝেমধ্যে পায়ে ক্র্যাম্প হলে সাধারণত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু সমস্যা যদি বারবার হয়, অত্যন্ত তীব্র হয়, দীর্ঘক্ষণ থাকে কিংবা সঙ্গে পেশির দুর্বলতা, অসাড়তা, ফোলা বা হাঁটতে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।বিশেষ করে কোনও ভিটামিন বা মিনারেলের ঘাটতি সন্দেহ হলে নিজে থেকে উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।
রাতে ঘুমের মধ্যে আচমকা পায়ের পেশিতে টান, খিঁচুনি, ঝিনঝিন বা অসাড়তার মতো সমস্যা অনেকেরই হয়। সবসময় এর জন্য ভিটামিনের ঘাটতিকে দায়ী করা যায় না। তবে ভিটামিন D, B12, B1-এর ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন E-এর ঘাটতির সঙ্গে পেশি ও স্নায়ুর সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজও পেশির স্বাভাবিক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।













