বাড়ির কাঠের আসবাবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘদিনের স্মৃতি। কিন্তু চোখের আড়ালে ঘুণপোকার বাসা হলে সেই সাধের আসবাবই ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাইরে থেকে কাঠ মোটামুটি ঠিক দেখালেও ভিতরে ভিতরে পোকা গর্ত তৈরি করতে থাকে। তাই শুরুতেই কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখলে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এড়িয়ে চলুন
ঘুণপোকার উপদ্রব ঠেকাতে প্রথমেই বাড়ির পরিবেশের দিকে নজর দেওয়া দরকার। কাঠের আসবাব যতটা সম্ভব শুকনো জায়গায় রাখুন। দেওয়াল বা মেঝেতে আর্দ্রতা থাকলে আসবাবের সঙ্গে সরাসরি দীর্ঘক্ষণ সংস্পর্শ এড়ানো ভালো।আসবাবে জল পড়ে গেলে দেরি না করে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। ঘরেও যেন অতিরিক্ত স্যাঁতসেঁতে ভাব না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ছোট ছিদ্র দেখলেই সতর্ক
কাঠের গায়ে আচমকা ছোট ছোট ছিদ্র দেখা গেলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। ছিদ্রের আশপাশে কাঠের গুঁড়ো জমছে কি না, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করুন।আক্রমণ একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে কাঠের উপযোগী সিল্যান্ট, মোম বা গালা দিয়ে ছোট ছিদ্র বন্ধ করার কথা ভাবা যেতে পারে। এতে পোকা ঢোকার পথ বন্ধ করতে কিছুটা সাহায্য হতে পারে।
নিমতেল ব্যবহারে সাবধান
কাঠে পোকামাকড়ের সমস্যা দেখা দিলে অনেকে নিমতেল ব্যবহার করেন। তবে কোনও কাঠের আসবাবে সরাসরি তেল লাগানোর আগে সেটি ওই কাঠের পালিশ বা ফিনিশ নষ্ট করবে কি না, তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।প্রথমে আসবাবের অল্প একটি অংশে ব্যবহার করে দেখে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ঘর পরিষ্কার ও শুকনো রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
পুরনো আসবাবের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করুন
বহু বছরের পুরনো সেগুন, মেহগনি বা অন্য কাঠের আসবাব হলে আরও বেশি যত্ন প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর কাঠের অবস্থা পরীক্ষা করুন।প্রয়োজন অনুযায়ী বার্নিশ বা কাঠের উপযোগী প্রতিরক্ষামূলক প্রলেপ ব্যবহার করা যায়। এতে কাঠের উপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি হতে পারে এবং আর্দ্রতার প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বোরন-ভিত্তিক উপাদান ব্যবহারে সতর্কতা
কাঠ সংরক্ষণে বোরন-ভিত্তিক কিছু প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। তবে এগুলি ব্যবহার করার আগে পণ্যের লেবেলে দেওয়া নির্দেশিকা অবশ্যই পড়ে নিন।শিশু ও পোষ্যদের নাগালের বাইরে এসব রাসায়নিক রাখতে হবে। কাঠের ধরন, আসবাবের ফিনিশ এবং সমস্যার মাত্রা অনুযায়ী উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়াই নিরাপদ।
সমস্যা বেশি হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন
ঘুণপোকার আক্রমণ যদি কাঠের গভীরে ছড়িয়ে যায়, শুধু ঘরোয়া উপায়ে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। কাঠে অসংখ্য ছিদ্র, প্রচুর গুঁড়ো পড়া বা কাঠ দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোল পরিষেবার সাহায্য নেওয়া উচিত।
খাট, আলমারি, টেবিল-চেয়ারসহ কাঠের আসবাবে ঘুণপোকার আক্রমণ হলে ধীরে ধীরে ভিতর থেকে কাঠ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, ছোট ছিদ্র বা ঘুণের গুঁড়োর মতো লক্ষণ দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আসবাব শুকনো রাখা, নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনমতো কাঠ সংরক্ষণের উপাদান ব্যবহার করে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা যায়।













