মাতৃত্বের সুখবরের পাশাপাশি আবেগঘন এক অভিজ্ঞতার কথাও ভাগ করে নিলেন টেলি অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। সন্তান জন্মের আগে অতীতের একটি তিক্ত স্মৃতি তাঁকে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। সেই কারণেই চিকিৎসকদের পরামর্শে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওতে গোটা বিষয়টি খোলাখুলি জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ, আবেগে ভাসলেন সুস্মিতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে সুখবর জানিয়ে সুস্মিতা লিখেছেন, বহু বছরের অপেক্ষা, লড়াই এবং না-পাওয়ার যন্ত্রণা শেষে অবশেষে মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদের জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।
কেন প্রসবের আগেই হাসপাতালে ভর্তি?
সুস্মিতার কথায়, সন্তানসম্ভবা অবস্থায় চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল শিশুর হার্টবিট এবং নড়াচড়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। সেই কারণেই প্রসবের সম্ভাব্য সময়ের দু’দিন আগে থেকেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়।অভিনেত্রী জানান, শিশুর হার্টবিট স্বাভাবিক রয়েছে কি না এবং সবকিছু ঠিকঠাক চলছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই চিকিৎসকরা বারবার পরীক্ষা করছিলেন।
আগের মিসক্যারেজের স্মৃতি বাড়িয়েছিল উদ্বেগ
সুস্মিতা জানান, সাত বছর আগে গর্ভধারণ করলেও সেই সন্তানকে হারাতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এবারও তাঁকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করে রেখেছিল। তাই চিকিৎসকরাও কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি।তিনি বলেন, আগের মিসক্যারেজের ইতিহাস থাকায় কোনও ধরনের প্যানিক তৈরি না হয়, সেজন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল তাঁকে।
হাসপাতালের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা শেয়ার
হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময়ের একাধিক মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন সুস্মিতা। তিনি জানান, পাশের ওয়ার্ড থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনলেই তাঁর মনে হতো, খুব শিগগিরই তিনিও নিজের সন্তানের কান্না শুনতে পারবেন। সেই আশাতেই সমস্ত শারীরিক কষ্ট সহ্য করার শক্তি পেয়েছিলেন।
বিয়ে ঘিরে জল্পনার মধ্যেই নতুন অধ্যায়
ব্যবসায়ী শুভাশিস দে-র সঙ্গে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই মা হওয়ায় সুস্মিতাকে নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও এসব বিতর্কে কোনও মন্তব্য না করে তিনি নিজের মাতৃত্বের আনন্দকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে মা ও সন্তান—দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার পর মা হয়েছেন টেলি অভিনেত্রী সুস্মিতা রায়। তবে সন্তান জন্মের দু’দিন আগেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। অতীতের মিসক্যারেজের অভিজ্ঞতার কারণে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই ছিলেন তিনি। কেন আগেভাগে ভর্তি হতে হয়েছিল, সেই কারণ নিজেই প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।








