রাজ্যে ইডির তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চরমে। এই আবহে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিযানের সময় আটক না করায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের প্রশংসা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ইডি কোনও প্ররোচনায় পা না দিয়ে সংযমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মিছিল থেকে সভা, সেখানেই বিস্ফোরক মন্তব্য
রবিবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত বিজেপির মিছিলের নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী। মিছিল শেষে দেশপ্রিয় পার্কে দলের সভামঞ্চ থেকেই ইডি অভিযান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন তিনি।
আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি ও বিতর্ক
গত বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলবিদ সংস্থা আই-প্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযান ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
“ইডি ফাঁদে পা দেয়নি”—শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাধা না দেওয়া ছিল ইডির সঠিক সিদ্ধান্ত। তাঁর দাবি, “অনেকে বলছেন, সেদিন মমতাকে ঢুকতে দেওয়া উচিত হয়নি। কিন্তু আমি বলছি, ইডি ঠিক কাজ করেছে।”
‘উস্কানি তৈরি করার চেষ্টা ছিল’—অভিযোগ
বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যাতে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং পরে ইডির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তাঁর কথায়, “ওই দিন উনি চাইছিলেন, ইডি যেন উনাকে স্পর্শ করে।”
সিআরপিএফ-এর ভূমিকাতেও সন্তুষ্ট শুভেন্দু
শুধু ইডিই নয়, ঘটনার দিন কর্তব্যরত সিআরপিএফ জওয়ানদের ভূমিকাতেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, পরিস্থিতি সামলাতে বাহিনী পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে।
তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
শুভেন্দুর মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারের কটাক্ষ, “শুভেন্দু আজেবাজে কথা বলেন। সাত বছর পুরনো মামলায় নোটিস ছাড়াই অভিযান চালানো হয়েছে। কয়লাকাণ্ডে শুভেন্দুর নাম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”
মমতার ব্যাখ্যা
অভিযানের পরদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেন, তিনি কোনও বেআইনি কাজ করেননি। তাঁর বক্তব্য, “আমি যা করেছি, তা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবেই করেছি।”
আই-প্যাক অফিসে ইডির তল্লাশি ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক না করায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও সিআরপিএফ-এর ভূমিকাকে সঠিক বলে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।








