বিমল গুরুংয়ের চিঠির জবাব শুভেন্দুর, পাহাড়ে নেপালি ভাষায় সরকারি পরিষেবা নিয়ে বড় আশ্বাস

বিমল গুরুংয়ের চিঠির জবাবে নেপালি ভাষায় সরকারি ফর্ম, আবেদনপত্র ও প্রশাসনিক পরিষেবা বাড়ানোর উদ্যোগের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের মানুষের জন্য কী সুবিধা হতে পারে, জানুন।

দার্জিলিং পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের নেপালি ভাষাভাষী মানুষের জন্য বড় খবর। সরকারি পরিষেবায় নেপালি ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর দাবিতে বিমল গুরুংয়ের পাঠানো চিঠির জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের এই ইতিবাচক আশ্বাস বাস্তবায়িত হলে সরকারি বিভিন্ন ফর্ম ও পরিষেবা পেতে ভাষাগত সমস্যায় পড়া বহু মানুষের সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি ফর্মে নেপালি ভাষা ব্যবহারের উদ্যোগ

বিমল গুরুংয়ের চিঠিতে দার্জিলিং পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্স এলাকার সরকারি ফর্ম ও আবেদনপত্রে নেপালি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নেপালি ভাষার সরকারি ব্যবহার ও স্বীকৃতি আরও বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র, জাতিগত শংসাপত্র, আয় ও আবাসিক শংসাপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবার আবেদন করা আরও সহজ হতে পারে। পাশাপাশি রেশন, পেনশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেপালি ভাষাভাষী সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভাষাগত সমস্যায় কমবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

এতদিন অনেক সরকারি ফর্ম বাংলা অথবা ইংরেজিতে থাকায় নেপালি ভাষাভাষী মানুষের একাংশকে আবেদনপত্র পূরণ করতে অন্যের সাহায্য নিতে হত। এর ফলে তথ্য ভুল দেওয়া বা আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকত। সরকারি নথি ও ফর্মে নেপালি ভাষার ব্যবহার বাড়লে এই সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে।

সাংস্কৃতিক মর্যাদার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ

এই পদক্ষেপের গুরুত্ব শুধু প্রশাসনিক সুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে স্বীকৃত নেপালি ভাষার সরকারি ব্যবহার আরও বিস্তৃত হলে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের নেপালি ভাষাভাষী মানুষের ভাষাগত পরিচয়ও আরও শক্তিশালী হবে।দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পরিষেবায় মাতৃভাষার ব্যবহার বাড়ানোর যে দাবি উঠেছে, এই আশ্বাস তার বাস্তবায়নের পথ খুলে দিতে পারে। তবে এখন মূল নজর থাকবে, কবে এই বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা জারি হয় এবং বাস্তবে কত দ্রুত পরিষেবাগুলি নেপালি ভাষায় চালু করা সম্ভব হয়।

দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের নেপালি ভাষাভাষী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিমল গুরুংয়ের চিঠির জবাবে রাজ্য সরকারের তরফে সরকারি ফর্ম, আবেদনপত্র ও প্রশাসনিক পরিষেবায় নেপালি ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

Leave a comment